এসআই শফিকুল হত্যা
দুর্গাপুর (নেত্রকোণা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৫ ১১:৫১ এএম
আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৫ ১৫:৫৪ পিএম
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নেত্রকোণার দুর্গাপুরে দুষ্কৃতকারীদের হামলায় আহত হয়ে রাতেই মারা যান এসআই শফিকুল ইসলাম। শনিবার তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম চলছে। প্রবা ফটো
‘বিচার চাই গো, আমি আর কিছু চাই না গো, আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।’ বুক চাপড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলতে থাকেন জামালপুরের নেত্রকোণার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হওয়া পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলামের বৃদ্ধা মা ফাতেমা খাতুন।
কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন এসআই শফিকুল ইসলাম। নিহত এই পুলিশ সদস্য জামালপুর পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার নেত্রকোণার দুর্গাপুরে শফিকুল ইসলাম তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন এবং পরদিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ময়মনসিংহের ভাড়া বাসায় ওঠার কথা ছিল।
নিহত এসআই শফিকুল ইসলামের বাবা রফিকুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা ৬ জনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনও কোনো আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাজার করার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর দুর্গাপুর পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকায় পান মহালের গলিতে কয়েকজন দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কোপালে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় তার ডান পায়ের গোড়ালির নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ওইদিন রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। পরদিন দুপুরে উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে তার লাশ পৌঁছলে স্বজনদের মাঝে শুরু হয় শোকের মাতম। বিকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন হয়।
নিহত পুলিশের এসআই শফিকুলের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন বলেন, একজন নিয়মিত পুলিশ সদস্য হওয়ায় হত্যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমার স্বামীর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন সোর্স, সিসিটিভি ফুটেজ ও আধুনিক প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও এখনও কেউ গ্রেপ্তার হলো না। আমরা খুবই হতাশায় আছি।
ময়মনসিংহ রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আবুল কালাম আযাদ শুক্রবার নিহতের বাড়ি যান এবং নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জানাজায় অংশ নেন। এ সময় তিনি বলেন, শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।