আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:৪৩ পিএম
রেললাইনের ওপর দিয়ে ডাবল লেনের সড়ক। সেই সড়কের এক পাশে ব্যারিয়ার ফেলা হয়েছে। অন্য পাশ দিয়ে অবাধে চলছে গাড়ি। ট্রেন আসা নিয়ে ভ্রুক্ষেপ নেই মানুষজনের। রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির তা থামানোর গরজও নেই। চট্টগ্রামের কদমতলী রেলক্রসিংয়ের এই দৃশ্য স্থানীয় সবারই পরিচিত।
একেবারে স্টেশনের পাশের এই রেলক্রসিংটি শহরের একদম ব্যস্ততম এলাকায় অবস্থিত। প্রতিদিন অন্তত ৩০ জোড়া ট্রেন এই রেললাইনে যাতায়াত করে। চট্টগ্রামের প্রধান বাস ডিপো কদমতলী বাস ডিপোও পাশে। সব মিলিয়ে সারাক্ষণ মানুষের পদচারণায় ব্যস্ত থাকে এই সড়ক। রেলওয়ের হিসাবেও এটি স্পেশাল রেলক্রসিং।
তবু এই রেলক্রসিংয়ে রাস্তার উভয় পাশে ব্যারিয়ার নেই। নেই পর্যাপ্ত লোকবলও। নিয়ম অনুযায়ী স্পেশাল রেলক্রসিংয়ে প্রতি শিফটে তিনজন করে গেটম্যান কাজ করার কথা। সেখানে কাজ করে একজন।
পূর্বাঞ্চল রেলের চট্টগ্রাম বিভাগে মোট ১৩৭টি লেভেল ক্রসিং গেট আছে।
রেলের সর্বশেষ প্রকাশিত ওয়ার্কিং টাইম টেবিলের তথ্য অনুযায়ীÑ চট্টগ্রাম বিভাগে মোট চার ক্যাটাগরির ১৩৭টি লেভেল ক্রসিং আছে। এর মধ্যে স্পেশাল ক্যাটাগরির ১৭টি, এ ক্যাটাগরির ৮টি, বি ক্যাটাগরির ৩২টি, সি ক্যাটাগরির ৭৩টি ও ডি ক্যাটাগরির ৬টি।
এর বাইরেও শত শত অবৈধ রেলক্রসিং আছে। বৈধ অনেক রেলক্রসিংয়ে লোকবল নেই। চট্টগ্রামের বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে ৯ শতাধিক ক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান নেই, নেই ব্যারিয়ার।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনেক অবৈধ রেলক্রসিং আছে। বিভিন্ন এলাকায় অনেক প্রভাবশালী মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে রাতারাতি ক্রসিং তৈরি করে নেয়। এসব অবৈধ ক্রসিংয়ে রেলের লোকবল নেই। এগুলো ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে বড় হুমকি তৈরি করেছে। বৈধ রেলক্রসিংয়ের ক্ষেত্রেও লোকবল সংকটের কারণে একটা বড় ঝুঁকি থেকে যায়। পূর্বাঞ্চলে স্থায়ী প্রায় চারশ গেটম্যানের পাশাপাশি ১ হাজার ৩৮ জন অস্থায়ী গেটম্যান কাজ করে।
তবে অভিযোগ আছে রেলের লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যানদের অনেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না। অনেকে আশপাশের দোকানি কিংবা বাসিন্দাদের দায়িত্ব দিয়ে কর্মস্থলে গরহাজির থাকেন। দুই বছর আগে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে খৈয়াছড়া এলাকায় রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসে থাকা ১১ জন নিহত হয়, যারা সবাই ছাত্র। একটি কোচিং সেন্টার থেকে পিকনিক করতে খৈয়াছড়া গিয়েছিল তারা। ওই দুর্ঘটনার সময় গেটম্যান অনুপস্থিত ছিলেন।
অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে প্রায়ই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হচ্ছে।