মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:৫৯ পিএম
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:১৪ পিএম
মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়নের যুবদল নামধারী একদল ক্যাডার মোটরসাইকেলযোগে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে হামলা চালিয়ে ঘেরটি জবরদখল করে নেয়। এ সময় দখলে বাধা দিলে দখলকারীরা চৌকিদারদের মারপিট করার চেষ্টাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘের থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ইউনিয়নের নারকেলতলা আবাসনসংলগ্ন পাকখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে ওই দিনই চিংড়ি ঘেরের যৌথ মালিক মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী শেখ আ. সালাম ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর এসএম জিহাদুজ্জামান থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আ. সালাম জমির মালিকদের কাছ থেকে লিজ নিয়ে নিয়মিতভাবে ইজারার টাকা পরিশোধ করে ওই জমিতে চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ চাষ করে আসছেন। এরপর ২০১৭ সালে শেখ আ. সালাম ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর এসএম জিহাদুজ্জামান যৌথ মালিকানায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত লিজকৃত ওই ঘেরে বিভিন্ন মাছের চাষ করে আসছেন। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসেও চাষের জন্য কয়েক লাখ টাকার বাগদা, গলদা চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছের পোনা ছাড়েন তারা। এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ চিংড়ি ঘেরটি স্থানীয় যুবদল নামধারী একটি মহল বিভিন্ন মাধ্যমে জবরদখলের কয়েকবার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রয়াত মোংলা পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ফকির আব্দুস সালামের ছেলে যুবদল নেতা মো. সুমন ফকির ও তার সহযোগী সোহাগ শেখের নেতৃত্বে যুবদল নামধারী ১৪-১৫ জনের সশস্ত্র বাহিনী মোটরসাইকেলে মহড়া দিয়ে ওই ঘেরটি জবরদখল করে তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা সুমন ফকির বলেন, ‘ওই ঘেরে তার প্রয়াত পিতা ও স্বজনদের বেশ কিছু জমি রয়েছে, তারা তাদের জমিতে ঘের করতে গিয়েছে এবং মোংলা পৌর বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক এমরান হোসেনের নামে ওই ঘেরের নতুন ডিড করা হয়েছে।’
তবে পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমরান হোসেন জানান, ওই ঘেরের সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন। নাম ভাঙিয়ে তার সুনাম ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।
পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মাহমুদ রিয়াদ বলেন, ‘আমার জানামতে সুমনসহ যারা চিংড়ি ঘের দখল করেছে, তারা কেউ যুবদলের নেতাকর্মী এমনকি সমর্থকও নয়। আর দলীয় নাম ব্যবহার করে যারা এমন কর্মকাণ্ডে জড়াবে দল থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মোংলা থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘জমিসংক্রান্ত বিষয়ের বিরোধ দেখা পুলিশের কাজ নয়।’
পুলিশের মোংলা-রামপাল সার্কেলের এএসপি মুশফিকুর রহমান তুষার বলেন, ‘এ ব্যাপারে থানায় দেওয়া অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত করে দেখছে ঘেরটির আসল মালিক কে।’