শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:৫৩ পিএম
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:৫৪ পিএম
গাজীপুরের শ্রীপুরে সহকর্মীকে বখাটেদের হাত থেকে মুক্ত করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নারী পোশাকশ্রমিক। বখাটেরা ওই নারীকে ৪০ ঘণ্টা আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পূর্বখণ্ডে (ফখর উদ্দিন প্রিন্ট কারখানা গেট) নজরুল উকিলের ভাড়াবাসায় এ ঘটনা ঘটে।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) ভুক্তভোগী নারী চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত তিনজনসহ মোট সাতজনকে অভিযুক্ত করে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন। তারা হলোÑ শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া দক্ষিণ খণ্ড এলাকার আশরাফুল ইসলাম, উপজেলার কাওরাইদের (মোড়লপাড়া) সাগর, কেওয়া দক্ষিণ খণ্ডের (গারোপাড়া) ইয়াসিন, নেত্রকোণা সদরের হাটখোলা বাজারের মনিরুল ইসলাম নিরব এবং তাদের সহযোগী অজ্ঞাত তিনজন। আসামি নিরব কেওয়া পূর্ব খণ্ড এলাকার নজরুল ইসলামের বাড়ির ভাড়াটিয়া।
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কর জানান, এ ঘটনায় সাগর, আশরাফ ও নিরব নামের তিনজনকে শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মারধরের শিকার পোশাকশ্রমিক নাজমুল হক স্থানীয় ইশরাক স্পিনিং মিল কারখানায় চাকরি করেন।
মামলার এজাহারে ভিকটিম উল্লেখ করেন, বখাটেদের মারধরের শিকার নাজমুল হক ও তিনি একই কারখানায় চাকরি করেন। গত বুধবার বিকালে নাজমুলের ফোন পেয়ে তিনি ফখর উদ্দিন কারখানার মোড়ে যান। সেখান থেকে আসামি সাগর তাকে ফখর উদ্দিন প্রিন্ট কারখানা গেটসংলগ্ন নজরুল উকিলের বাসায় নিয়ে যায়। ওই বাসায় গিয়ে তিনি দেখেন তার সহকর্মী নাজমুলকে আসামিরা মারধর করছে। তারা নাজমুলকে নিয়ে যেতে হলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এতে তিনি রাজি না হলে আসামি আশরাফুল ও সাগর তাকে ধর্ষণ করে। পরে অজ্ঞাত তিন আসামিও ধর্ষণ করে। দুদিন আটকে রেখে শুক্রবার সকালে মোবাইল ফোন রেখে তাকে ছেড়ে দেয়। পরদিন তিনি মামলা করেন।
মারধরের শিকার পোশাকশ্রমিক নাজমুল হক বলেন, বুধবার বিকালে বেতনের টাকা তুলে বাসায় ফিরছিলাম। সহকর্মী ইয়াছিন ফোন করে ফখর উদ্দিন মোড়ে যেতে বলে। সেখানে গেলে ইয়াছিন ও তার সহযোগীরা আমাকে একটি বাড়িতে নিয়ে মারধর করে ২ লাখ টাকা দাবি করে। আমার সঙ্গে থাকা বেতনের সাড়ে ১৪ হাজার টাকা নিয়ে যায় তারা। পরে আরও টাকার জন্য মারধর করলে আমি দুই ব্যক্তির কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে আরও ৪ হাজার টাকা তাদের নিয়ে দিই।
শ্রীপুর থানার ওসি জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, মামলার পরই অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের রবিবার গাজীপুর আদালতে পাঠানো হবে।