রাজবাড়ী সংবাদদাতা
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২২ ১২:০০ পিএম
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২২ ১৩:৫৪ পিএম
লেপ-তোষকের দোকানে শীতের মৌসুমেও নেই ক্রেতা। ছবি : প্রবা
রাজবাড়ীতে শীতের মৌসুমেও লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে ক্রেতা দেখা যাচ্ছে না। পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও শীতের প্রভাব কম হওয়ার কারণে ক্রেতা না থাকায় ব্যবসায়ীরা অলস সময় পার করছেন। বিক্রি কমে যাওয়ায় কষ্টে দিন পার করছেন লেপ তোষক কারিগর ও ব্যবসায়ীরা।
গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর তুলা ও কাপড়সহ আনুসঙ্গিক সরঞ্জামের অধিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে শীতের মৌসুম এলেও লেপ ও তোষকের দোকানগুলোতে বিক্রি নেমে এসেছে অর্ধেকের চেয়েও কমে। বাজারের লেপ তোষকের দোকানগুলোতে ক্রেতা সাধারণের ভিড় কম দেখা গেছে। বেশির ভাগ দোকানিরা অলস সময় পার করছেন বিক্রি না থাকায়। আগে যেখানে প্রতিটি বড় আকারের লেপ তৈরিতে খরচ হত দেড় হাজার টাকা। বর্তমানে কাপড় ও তুলার অত্যাধিক দামের কারণে খরচ বেড়ে দুই হাজার টাকার মত লাগছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রতি কেজি ভালো মানের কার্পাস তুলা কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত এবং প্রতি গজ কাপড়ে বেড়েছে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা। এতে লেপ ও তোষক তৈরিতে গড়ে পাঁচশ টাকা থেকে এক হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। এ কারণে লেপ তোষকের দোকানে বিক্রি নেমে এসেছে অর্ধেকে।
এ কারণে এখনও শীতের প্রকোপ কম থাকায় দোকানগুলোতে বিক্রিও কম হচ্ছে। এ বাজারের অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মেসার্স সোহান এন্টারপ্রাইজ, ফুলশয্যা বিছানালয়সহ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ীদের অবস্থাও একই রকম।
আব্দুর রহমান নামে এক দোকানি বলেন, গত বছরের চেয়ে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি লেপ তোষকের দাম অনেক বেড়েছে। গত বছরের চেয়ে প্রতিটি লেপ তৈরিতে ৩শ টাকা থেকে ৫শ টাকা বেশি লাগছে। দাম বৃদ্ধির কারণে কম বিক্রি হচ্ছে।
রাজবাড়ী রড় বাজারের লেপ তোষক ব্যবসায়ী শাহেব আলী বিছানালয়ের মালিক শাকিল বলেন, ‘গত কয়েক বছরের তুলনায় লেপ ও তোষক তৈরির সরঞ্জাম কাপড় ও তুলার অত্যাধিক দাম বৃদ্ধির কারণে লেপ তোষক তৈরিতে খরচ পড়ছে অনেক বেশি। প্রতি কেজি তুলা আগে যেখানে দুইশ টাকায় বিক্রি করতেন এ বছর তা প্রায় দ্বিগুণ দরে কিনতে হচ্ছে। কাপড়ও প্রতি গজে বেড়েছে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা। এ কারণে শীতের মৌসুম এলেও তাদের লেপ তোষক বিক্রি কমেছে। এতে তাদের ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না।’
লেপ তোষক তৈরির কারিগর জহিরউদ্দিন বলেন, গত চার বছর পর প্রতিটি লেপ তৈরিতে ১৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি করা হলেও কাজ না থাকায় তাদের আশানুরুপ আয় হচ্ছে না।এতে তাদের সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে।
রাজবাড়ী লেপ তোষক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুর রহিম বলেন, লেপ তোষকের সরঞ্জাম কাপড় ও তুলার দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের বিক্রি নেমেছে অর্ধেকে। দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের বেচা বিক্রি একবারেই কমে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে তাদের ব্যবসায়িক পরিবেশ আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।