রামগঞ্জ স্কয়ার হাসপাতাল
রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৫ ১৯:২৭ পিএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:০৩ পিএম
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ স্কয়ার হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে চিকিৎসার আড়ালে রোগীদের ‘জিম্মি’ করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) ওই হাসপাতালে সেবা নেওয়া মো. মমিন হোসেনের স্ত্রী আকলিমা বেগমের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, যে ইনজেকশনের দাম সাড়ে চার হাজার টাকা সেটা ১৫ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। এছাড়া ৩৬ ঘণ্টায় ৬০ হাজার ১৮৭ টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইনজেকশানটি সংগ্রহ ও পুশ করার জন্য অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে।
এ ব্যাপারে আকলিমা জানান, উপজেলার পূর্ব ভাদুর কুড়ি ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা তার স্বামী মমিন হোসেন গত ৬ জানুয়ারি বুকে ব্যাথা অনুভব করেন। ওইদিন দিবাগত রাত ৩টার দিকে স্থানীয় এক প্রতিবেশীর পরামর্শে মমিন হোসেনকে রামগঞ্জ স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭ জানুয়ারি রোগী সুস্থবোধ করলে বিকাল ৩টায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৬০ হাজার ১৮৭ টাকার বিল ধরিয়ে রোগী রিলিজ করে দেয়। যেখানে ইনসেপ্টা কোম্পানির সাড়ে ৪ হাজার টাকা মূল্যের এস টি কে ইনজেকশনের দাম ধরা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। এছাড়া ৩৬ ঘণ্টায় কেবিন ভাড়া বাবদ সাড়ে ৭ হাজার টাকা এবং অক্সিজেন বাবদ ধরা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা।
এ সময় বিল নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে রোগীর আত্মীয়-স্বজন বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
হাসপাতালের চেয়ারম্যান হাসেম পাটোয়ারী বলেন, ‘যে বিল ধরা হয়েছে এ নিয়ে রোগীর পক্ষ থেকে আবদার করা হলে আমি ডিসকাউন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করতাম।’
অতিরিক্ত বিল ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এস টি কে ইনজেকশানটির দাম সাড়ে চার হাজার টাকা। তবে ইনজেকশানটি সংগ্রহ করা দূরহ ব্যাপার। তাছাড়া পুশ করাও কঠিন। তাই অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমন বিল রামগঞ্জের সকল হাসপাতালেই চলমান।’
বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন রামগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জানান, অতিরিক্ত বিলের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে অবগত হওয়ার সাথে সাথে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা হয়েছে বিল কমিয়ে দেওয়ার জন্য। এছাড়া অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।