গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৫ ১৫:৩৬ পিএম
কোনাবাড়ীতে পলিকন লিমিটেড নামে একটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রবা ফটো
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে একটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সকালে কারখানার মূল ফটকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার নোটিশ সাঁটিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে।
পলিকন লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক ফয়সাল জহিরের সই করা নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ডলার ক্রাইসিসের কারণে বিগত এক বছরের অধিক পলিকন লিমিটেড তার কাঁচামাল আমদানি করতে ব্যর্থ হয়। বিগত ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে প্রচন্ড লোডশেডিং হওয়ায় ফ্যাক্টরির উৎপাদন ৮০ ভাগকমে যায়।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ব্যাংকের লোন, বকেয়া স্যালারি,গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল কোনটাই সঠিকভাবে বিগত আড়াই বছর ধরে শোধ করতে না পারায় আমাদের ৪০ বছরের প্রতিষ্ঠান আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এছাড়াও আগামী তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ধাপে ধাপে সকল বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।
সকালের কাজের যোগদান করতে এসে কারখানা বন্ধ দেখতে পান শ্রমিকরা। পরে তারা কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি জানায়।
পলিকন লিমিটেড কারখানার শ্রমিক হামিদুল ইসলাম জানান, ১৭ বছর যাবত এই কারখানায় চাকরি করি। চার চার মাসের বকেয়া বেতন পাব। গতকালকেও আমরা ডিউটি করে গেছি। আজ সকালে অফিসের গেটে এসে অনির্দিষ্টকালের বন্ধের নোটিশ দেখতে পাই। শেষ বয়সে আমরা কোথায় চাকরি নেব। কিভাবে চলবে আমাদের সংসার। যেন চিন্তার ভাজ সাইফুল ইসলামের চোখে মুখে।
মেকানিক্যাল সেকশনের জাহাঙ্গীর আলম নামে আরেক শ্রমিক বলেন, ৩৭ বছর ধরে এই কারখানায় চাকরি করি। আমার হাতের আঙ্গুল একটি কেটে যায় কাজ করার সময়। হঠাৎ করে কারখানা ও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে দিল। আমাদের কথা চিন্তা করলোনা মালিক। এ বয়সে কোথায় চাকরি নেব, বউ পোলাপান না খেয়ে মরবে। গত বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, নভেম্বর এবং ডিসেম্বরের বকেয়া বেতন না দিয়েই কারাখানা বন্ধ দিয়েছে। আমাদের পাওনা পরিশোধ করে বন্ধ দিয়ে দিক।
এ বিষয়ে জানতে পলিকন লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক ফয়সাল জহিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।