ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৫ ১৮:১৬ পিএম
আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৫ ১৮:১৬ পিএম
গত পাঁচ মাস আগেও ঈশ্বরদী আওয়ামী লীগের কার্যালয় নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত থাকতো। কিন্তু গত ৫ আগষ্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই কার্যালয়টি ভুতুড়ে কক্ষে পরিণত হয়েছে। এক সময়ের সরগরম দলীয় কার্যালয়টিই এখন ছিন্নমূল ও পথচারিদের মলমূত্র ত্যাগের নিরাপদ স্থান। ময়লার স্তুপে সৃষ্টি হয়েছে ভাগাড়। দুর্গন্ধে এর সামনে দিয়ে হেঁটে পার হওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর কত জাঁকজমকপূর্ণ পালন হয়েছে এই কার্যালয়ে আর এই ১৬ ডিসেম্বর কার্যালয়টি গনশৌচাগারে পরিণত হয়েছে। মলমূত্রের দুর্গন্ধে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের আশেপাশে বসবাস করাও দূরহ হয়ে পড়েছে।
এই কার্যালয়ের সামনে বালুর স্তুপ করে রেখেছেন স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। ওই ব্যবসায়ী বলেন, জায়গাটা ফাঁকা রয়েছে সে কারণে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বালু এখানে রেখেছি।
মনসুর আলম নামে স্থানীয় একজন দোকানি জানান, সন্ধ্যার পর এই কার্যালয়ে ছিন্নমূল ও মাদকসেবীদের আখড়া বসে এবং ভিতরে প্রতিদিন ছিন্নমূল ও পথচারীরা মলমূত্র ত্যাগ করেন, এর দুর্গন্ধে দোকানে বসা মুশকিল হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এসব বিষয়ে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র ইছাহক আলী মালিথার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি গত ৪ মাস ধরে ঈশ্বরদীর বাইরে আছি, এ কারনে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে পারবনা। বলেই ফোনের সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হলে তারা প্রত্যেকেই তাদের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যারা পদ পদবী ও দলীয় ক্ষমতায় থেকে প্রভাব বিস্তার করেছেন, যারা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দুহাতে টাকা কামিয়েছেন, যারা জনপ্রতিনিধি হয়ে বিভিন্ন চেয়ারে থেকেছেন তাদের কেউই এখন প্রকাশ্যে নেই। বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে অথবা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের রোষানলে পড়ার ভয়ে তারা বাড়িছাড়া। মাঠ পর্যায়ের কর্মীরাও এখন প্রকাশ্যে আসেন না। ফলে যেখানে রাজনীতি করার সুযোগ নেই সেখানে দলীয় কার্যালয়ে যাওয়া আসার তো প্রশ্নই উঠেনা।