× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হাসপাতালে মিলছে না জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন

রাজশাহী অফিস

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৫ ১০:২৪ এএম

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৫ ১২:২২ পিএম

চাহিদার তুলনায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন মিলছে না। প্রবা ফটো

চাহিদার তুলনায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন মিলছে না। প্রবা ফটো

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার পাঁচ বছরের শিশু রবিউল আউয়ালকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না থাকায় তার বাবা তাকে রামেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। গত শনিবার হাসপাতালে এসে তিনি জানতে পারেন ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় এখন বাইরে থেকে কিনে এনে দিতে হচ্ছে। অগত্যা ৫৪০ টাকা খরচ করে ‘র‌্যাবিক্স-ভিসি’ নামের ভ্যাকসিনটি বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে এনে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এরপর রবিউলকে সেই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। সামনে আরও চারবার ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করতে হবে তার শরীরে। 

শুধু রবিউল নয়, তার মতো আক্রান্ত অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী প্রতিদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফিরে যাচ্ছে, নয়তো বাইরে থেকে ভ্যাকসিনটি কিনে এনে নিচ্ছে। এসব রোগীর অধিকাংশই আশপাশের উপজেলার, যাদের অধিকাংশই শিশু নয়তো কিশোর এবং তারা কুকুর, বিড়াল নয়তো শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত। 

জানা গেছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জলাতঙ্ক প্রতিরোধক ভ্যাকসিন বা টিকা প্রদান। এতে বিপাকে পড়েছে কুকুর-বিড়ালসহ বিভিন্ন পশুর কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে তারা এই ভ্যাকসিন আর দিতে পারছে না। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ইমার্জেন্সি বিভাগের পাশের একটি পৃথক কক্ষে জলাতঙ্ক প্রতিরোধক ভ্যাকসিন কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে বিনামূল্যে এই ভ্যাকসিনটি দেওয়া হয়। আগের চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। সেই সঙ্গে আশপাশের জেলা ও উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এই ভ্যাকসিন প্রদান করা হয় না। এ কারণে রামেক হাসপাতালে এই ভ্যাকসিনের চাহিদা দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য বিভাগের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসি) কাছে জলাতঙ্ক প্রতিরোধক ভ্যাকসিনের পাঁচ হাজার ভায়ালের জন্য চাহিদাপত্র দিয়েছে। তবে এর বিপরীতে মাত্র ২০০ ভায়াল সরবরাহ করা হয়েছে, যা দিয়ে মাত্র ৮০০ রোগীকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়। আর তা দুই দিনেই শেষ হয়ে গেছে। ফলে এখন রোগী বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে এনে দিলেই তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। অন্যথায় রোগীকে ফিরে যেতে হচ্ছে। 

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ও ইএমও ইনচার্জ ডা. শংকর কে বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কুকুর, বিড়াল, শিয়ালসহ বিভিন্ন পশুর আক্রমণের শিকার রোগীরা এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩২০ জন জলাতঙ্ক প্রতিরোধক ভ্যাকসিন নিয়ে থাকে। তবে হঠাৎ চাহিদা অনুযায়ী ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সব রোগীকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। চাহিদার তুলনায় সিডিসি থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে যদি আক্রান্ত ব্যক্তি ভ্যাকসিনটি কিনে এনে দেয় তবে হাসপাতাল থেকে তা রোগীর শরীরে প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভ্যাকসিনের এই সংকট আশপাশের জেলায়ও রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে সিভিল সার্জন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগকে জানানো হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হলে রামেক হাসপাতালের ওপর চাপ কমত; সেই সঙ্গে রোগীদের হয়রানিও দূর হতো। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা