ফরিদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:৩৬ পিএম
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:০০ পিএম
প্রতীকী ছবি
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর জোরপূর্বক ওই তরুণী ও যুবকের নগ্ন দৃশ্য ধারণের অভিযোগে মেম্বারের ছেলেসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি)
মধ্যরাতে উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা গ্রাম থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। এ
সময় মেম্বারের ছেলের মোবাইলে ধারণ করা নগ্ন ভিডিও ফুটেজগুলিও জব্দ করা হয়। ভুক্তভোগী
ওই তরুণীও পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ ডিসেম্বর বাবলাতলা গ্রামের স্থানীয় আকরাম খাঁন নামের এক টিকটকার ও ভিডিও ক্রিয়েটর ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে (২০) একটি নতুন টিকটক ভিডিও তৈরির জন্য বোয়ালমারী উপজেলা থেকে ভাঙ্গায় ডেকে আনে। এতে আকরামের সহযোগী ছিলেন মধুখালী উপজেলার জুয়েল মোল্লা ও অজ্ঞাত আরও এক যুবক। এরপর ৩১ ডিসেম্বর উপজেলার ঘারুয়া গ্রামে এক বাড়ির মালিকের বসতঘরে আটকে রেখে ওই তরুণীকে প্রলোভন দেখিয়ে আকরাম ধর্ষণ করে।
এরপর সেখান থেকে ওই তরুণীকে আকরাম ও তার সহযোগী দুই যুবক ৩ জানুয়ারি উপজেলার বাবলাতলা বাজার সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় ওঠে। সেই বাড়ির মালিককে আকরাম ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নেয়। বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের ৪নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আনারুদ্দিন ও তার ছেলে ছাইদুল মোল্লাসহ তাদের আরও ৫/৭ সহযোগীরা আকরামসহ ওই তরুণীকে বসতঘরে আটকে রাখে।
ওই তরুণীর বরাত
দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, এরপর ওই রাতে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ছাইদুলসহ তার সহযোগী ৫/৬
জন যুবক ওই তরুণী ও আকরামকে বিবস্ত্র করে মারধর করে এবং তাদের নগ্ন ভিডিও ধারণ করে।
একপর্যায়ে, ওই তরুণীর ধারণ করা ভিডিও দেখিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন ছাইদুল। তাদের
হাত থেকে রক্ষা পেতে কিছু টাকাও দেয় আকরাম ও তার সহযোগীরা। এরপর ভিডিও’র ভয় দেখিয়ে
আরও মোটা অংকের টাকা দাবি করে সেখান থেকে চলে যায় ছাইদুল ও তার সহযোগীরা।
পরবর্তীতে ওই রাতেই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে আকরাম ও তার সহযোগী জুয়েল মোল্লা। ঘটনার বিষয়টি থানা পুলিশ জানতে পারলে মধ্যরাতেই ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তরুণীসহ ৬ যুবককে আটক করে পুলিশ।
এ বিষয়ে চুমুরদী ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনারুদ্দিন মোল্লা জানান, ঘটনাটি জানাজানি হলে প্রথমে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তার ছেলের মোবাইলে অশ্লীল ভিডিও ধারণের বিষয়ে প্রশ্ন করলে, এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার ওসি মো. মোকসেদুর রহমান বলেন, ‘ওই তরুণী অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত ৬ যুবককে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন তারা। এতে ধর্ষণের দুইটি মামলা ও পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।’