কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৫ ১৪:৩১ পিএম
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৫ ১৪:৩৩ পিএম
ভুলুয়া নদীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ এ বাঁশের সাঁকোতে যাতায়াত করছে অন্তত ২০ হাজার মানুষ। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি উপজেলার সীমান্তবর্তী চরবাদাম ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াপদা বেঁড়ি এলাকায় ভুলুয়া নদীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোতে যাতায়াত করছে অন্তত ২০ হাজার মানুষ। সেতুর অভাবে চরম ভোগান্তিতে আছে শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী।
শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। যাতায়াতের সময় অনেকে পানিতে পড়ে যায়। রাতে আমরা ভয়ে কেউ দোকানপাট ও বাজারে যেতে পারি না।’
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, বাদামতলি, বটতলি, জুগিগো সমাজ, চরকাদিরা ও চরবাদাম ইউনিয়নের অন্তত ২০ হাজার মানুষের চলাচল এ ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে। মো. আজিজুল হক বলেন, ‘নির্বাচন এলেই এলাকার জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। পাস করার পর আর প্রতিশ্রুতি রাখে না।’ রহিমা খাতুন বলেন, ‘আমি কোনো সময়ই এ সাঁকো দিয়ে হেঁটে যেতে পারিনি। ভয়ে সব সময় বসে বসে পার হই। একদিন নিচে পড়ে গেছিলাম।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৩০ বছর আগে এলাকাবাসীর চাঁদায় নির্মিত হয় এ বাঁশের সাঁকোটি। প্রতি বছর স্থানীয়রা চাঁদ তুলে সাঁকোটি মেরামত করেন। পাশেই হাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চরজগবন্দু সফিগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসা। দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন ধরনের কৃষি পণ্য নিয়ে কৃষকেরা সাঁকো পার হতে ভোগান্তির শিকার হন, সঙ্গে গুণতে হয় অতিরিক্ত টাকা। যান চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের জেলা শহরে নিতে সমস্যা হয়। প্রায় ২শ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁশের সাঁকোটি উঁচু-নিচু অবস্থায় আছে। চলার সময় এটি দোলে।
চরবাদাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন জসিম বলেন, ‘ওই স্থানে সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সেতু নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) আবেদন করা হয়েছে। তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এ ব্যাপারে এলজিইডির সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রামগতি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।