রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২২ ১৯:০৮ পিএম
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২২ ১৯:১৭ পিএম
রংপুর সিটি করপোরেশন কার্যালয়ের প্রধান ফটক। ছবি : প্রবা
রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে লড়তে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১০ মেয়র প্রার্থী। একই সঙ্গে মহিলা কাউন্সিলর পদে ৬৯ জন এবং সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে ১৯৮ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মেয়র পদে মনোনয়পত্র জমা দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আতাউর জামান বাবু, স্বতন্ত্র প্রার্থী লতিফুর রহমান মিলন, মেহেদী হাসান বনি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুজ্জামান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আবু রায়হান, খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল, জাসদের শফিয়ার রহমান ও জাকের পার্টির খোরশেদ আলাম।
প্রার্থীদের মনোয়ন জমার বিষয় নিশ্চিত করে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রির্টানিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইভিএমে ভোটদান বিষয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে। নির্বাচনে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি। সেই সঙ্গে প্রার্থীদের প্রতি আমার আহ্বান তারা যেন আচারণ বিধি মেনে চলেন।’
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় প্রাঙ্গণে। প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে এলাকাটি। বিশৃঙ্খলা এড়াতে নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে আসেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মনোনয়ন জমা দেয়ার পর মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ‘ইভিএম যেহেতু একটি যন্ত্র তাই এটি নিয়ে শঙ্কা তো থেকেই যায়। তবে নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে তাহলে ইভিএম দিয়েও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব। নির্বাচনে পেশী শক্তি ও কালো টাকার ছড়াছড়ি বন্ধে নির্বাচন কর্মকর্তাদের কঠোর হতে হবে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। আমরা চাই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।’
দুপুর ২টায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া।
মনোনয়ন দাখিল শেষে তিনি বলেন, ‘নৌকায় ভোট দিতে নির্বাচনের দিনক্ষণ গুনছে মানুষ। তারা নগরীর উন্নয়নে এবার নৌকার বিজয় দেখতে চায়। নগরের মানুষ আমার শক্তি। তারা সিটি নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবেন।’
দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। দলের সব নেতা-কর্মী আমার সঙ্গে আছেন। নির্বাচনে অংশ নিতে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তারা নির্বাচনে থাকবেন কি না তা সময় বলে দেবে।’
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আতাউর জামান বাবু বলেন, ‘রংপুরের মানুষের স্বার্থে আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমার প্রতি নগরবাসীর ব্যাপক সমর্থন রয়েছে।’
এদিকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার জামান বাবলা।
মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টার মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যে নির্বাচন ইভিএমে হবে, সে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ইভিএমে ভোট চুরির অনেক উদাহরণ আছে। রংপুর সিটির নির্বাচনে অংশ নিতে দল থেকে অনুমতি না পাওয়ায় আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি না। এ জন্য আমি রংপুর সিটিবাসীর কাছে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।’
এর আগে সোমবার (২৮ নভেম্বর) দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে সিটি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালানো জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাহবুবার রহমান বেলাল।
এ ছাড়া মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দেননি জাতীয় পার্টির বহিস্কৃত ভাইস চেয়ারম্যান একেএম আব্দুর রউফ মানিক, মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এমএ মজিদ।
রংপুর সিটি করপোরশন নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। ৮ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ৯ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ ও ২৭ ডিসেম্বর ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।