× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শ্রীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ওষুধ ব্যবসায়ী নিহত

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:২০ পিএম

শ্রীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ওষুধ ব্যবসায়ী নিহত

গাজীপুরের শ্রীপুরে কিশোর গ্যাং সদস্যদের হামলায় এক ওষুধ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ সময় তারা বাড়িতে প্রবেশ করে নিহতের স্ত্রী ও শ্যালিকাকে লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) মধ্যরাতে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড (মসজিদ মোড়) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত ওষুধ ব্যবসায়ীর নাম হাসিবুল ইসলাম বাদশা (৪০)। তিনি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ইলোহার গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। গ্রেপ্তার দুজন হলেনÑ মাওনা (মসজিদ মোড়) দারগারচালা এলাকার আলী আকবরের ছেলে কিশোর গ্যাং সদস্য অন্তর (২০) এবং মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে রুমান (২০)।

স্থানীয়রা জানায়, নিহত বাদশা প্রায় এক যুগ আগে শ্রীপুর পৌরসভার মাওনার মসজিদ মোড় এলাকায় জমি কিনে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তিনি মসজিদ মোড় এলাকায় একটি ফার্মেসি দিয়ে ওষুধ ব্যবসায় পরিচালনা করতেন। এলাকার সবার কাছে সজ্জন হিসেবে পরিচিত বাদশার কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল না। এলাকাবাসীর যেকোনো বিপদে খবর পেলেই ছুটে যেতেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সহযোগিতা করতেন। 

নিহতের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার জানান, স্কুল ছুটিতে সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় বাবার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন। ঘটনার সময় বাসার সামনেই আসা মাত্র ২০ বছরের কাছাকাছি বেশ কয়েকজন তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে তার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন (অলঙ্কার) ছিনিয়ে নেয়। স্বামী হাসিবুল ইসলাম হামলাকারী কিশোরদের নাম ধরে ডেকে এরকম না করার অনুরোধ করায় তার ওপর উপর্যুপরি কিল ঘুসি লাথি মারতে থাকে। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় প্রথমে মাওনা চৌরাস্তা আল হেরা হাসপাতাল ও পরে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ওষুধের দোকানি হাসিবুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন, বাসার পাশের সড়কে রিকশা আরোহী, পথচারীদের আটকে মারধর ও ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রায়ই ঘটত। রাত ১২টার পর বাসার পাশের সড়ক দিয়ে কেউ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে না। এসব বিষয়ে কারও কাছে কিছু বলার সাহস পেতাম না। অবশেষে নিজের পরিবারের ওপর সেই অঘটনটি ঘটে গেল। আমার স্বামীকে মেরে চার শিশুসন্তানকে এতিম করল ওরা। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি চিরতরে চলে গেল। আমার বড় মেয়েটা এবার পঞ্চম শ্রেণি পাস করেছে। মেঝ মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করব। আর দুই সন্তানের তো ঠিকমতো কথাই ফোটেনি। এখন আমাদের প্রতিটি ক্ষণ কাটছে ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দুশ্চিন্তায়। যারা এ হত্যায় জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। 

নিহত হাসিবুল ইসলামের শ্যালক জাহিদুল ইসলাম শিমুল হোসেন বলেন, ঢাকায় আত্মীয়ের বাসা থেকে রাত প্রায় আড়াইটার দিকে মাওনা চৌরাস্তা (মসজিদ মোড়) বাসায় আসি। গাড়ি থেকে মহিলারা নেমে যাওয়ার পর কিশোর গ্যাং প্রধান রুবেলসহ তার ৭-৮ জন সহযোগী গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। তখন রুবেল দুলাভাইকে (হাসিবুল) বলে, তোরা এখানে ভাইসা আসছচ, তোদেরকে উড়াইয়া দিমু। তখন দুলাভাই বলেন, ভাগিনা (রুবেল) তোমরা চলে যাও। তোমরা আমার কাছের লোক না? এ কথা বলামাত্রই রুবেল ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন দুলাভাইকে কিল ঘুসি মারতে থাকলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। তার সঙ্গে থাকা অন্যরা বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আমার দুই বোনের গলার চেন ছিনিয়ে নেয়। 

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমাউল হুসনা বলেন, রাতের ওই সময়ে হাসিবুল ইসলামকে তার স্বজনরা মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে।

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারী অন্তর ও রুমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। 

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, হাসিবুল ঢাকায় তার আত্মীয়ের বাসা থেকে গভীর রাতে শ্রীপুরের মাওনার নিজ বাসার সামনে হামলার শিকার হন। হামলার ঘটনায় জড়িত অন্তর ও রুমানকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলাকারী পলাতক রুবেলসহ তার অন্য সহোযোগীদের আটকের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা