বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৫ ১৮:৩০ পিএম
বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় বান্দরবানে বিভিন্ন সম্প্রদায় সম্প্রীতির মিছিল করেন। প্রবা ফটো
কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ইস্যুতে দেশ ছেড়ে ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৩ হাজার বম সম্প্রদায়ের লোকজন। জনশূন্য হয়েছে ৭টি পাড়াসহ মোট ৯টি বম সম্প্রদায়ের এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) বান্দরবান পৌরসভার ট্রাফিক মোড় এলাকায় সম্প্রীতির মিছিল শেষে বম সম্প্রদায়ের খ্রিষ্টান ধর্ম যাজক রেভাঃ পাকসিম বম একথা বলেন।
জনশূন্য পাড়া গুলো হল রোয়াংছড়ি উপজেলা, রোংছড়ি সদর ইউপি, পাইক্ষ্যং পাড়া, আলেক্ষ্যং ইউপি-ওলন্দাজনপাড়া, রুমা উপজেলা পাইন্দু ইউনিয়নের জুরপি পাড়া, রেমাক্রী ইউপির চাইংক্ষ্যং পাড়া ও বান্দরবান সীমান্তবর্তী রাঙ্গামাটি বিলাইছড়ি উপজেলার সাইজাম পাড়া।
পাকসিম বম বলেন, কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ইস্যুতে অন্তত তিন হাজার বম সম্প্রদায়ের লোকজন ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নিয়েছে। ভারতে পালাতে গিয়ে মিয়ানমারের আরাকান আর্মির কাছে বন্ধি রয়েছে অনেকেই।
এ ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে বম সম্প্রদায়ের উৎপাদিত ফসল ক্রয় বিক্রয়ে ব্যাঘাত হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরোক্ষভাবে জেলা জুড়ে পর্যটন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) সংগঠনের নামে বিপদগামী সকল বম সম্প্রদায়ের সদস্যদের সরকারের নিকট আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সুষ্ঠ জীবনে ফিরে আসার আহবান জানান তিনি।
এই উদভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে জেলার দূর্গম এলাকাগুলোতে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর আনাগোনা বৃদ্ধি পায়। একই বছরের ১৮ অক্টোবর রুমা - রোয়াংছড়িতে দেশি বিদেশি পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে স্থানীয় প্রশাসন। এই নিষেধাজ্ঞা কয়েক দফা বাড়িয়ে রুমা-রোয়াংছড়ি, আলীকদম ও থানচি উপজেলায়ও আরোপ করা হয়। পরে আলীকদম উপজেলা হতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও রুমা-রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় বহাল রয়েছে।
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও গত বছর ৩ ও ৪ এপ্রিল রুমা ও থানচিতে তিনটি ব্যাংকে ডাকাতি করে সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফ। এরপর গতবছর ৬ এপ্রিল সন্ত্রাস দমনে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করে। চলমান অভিযানে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাসহ নিহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।