রংপুর অফিস
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৫ ১৮:১৪ পিএম
আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৫ ১৮:১৬ পিএম
রংপুরের তিস্তা নদীতে একটি বিরল প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে। পাখিটির নাম পাতি মার্গেঞ্জার। পরিযায়ী এ পাখি দেখতে অনেকটা রাজহাঁসের মতো। ঠোঁট, পা, পায়ের পাতা, কমলা রংয়ের। ডানা ধুসর, সাদার মিশ্রণ। কয়েক বছর আগে স্থানীয়রা একবার এ পাখিকে তিস্তায় দেখেছিল। গেল বছর শেষ ডিসেম্বর মাসে দ্বিতীয়বারের মতো তিস্তা নদীতে দেখা মিলেছে পাতি মার্গেঞ্জার পাখিকে।
দীর্ঘদিন ধরে পাখির ছবি তুলতে দেশ-বিদেশে ছুটে বেড়িয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ। ৩১ ডিসেম্বর সকাল থেকে তিনি নৌকায় করে তিস্তা নদীতে পাখির ছবি তুলেছেন।
তুহিন ওয়াদুদ জানান, ওই দিন বেলা দেড়টার দিকে রংপুরের পীরগাছা ও কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্ত ঘেঁষা তিস্তা নদীতে পাখির ছবি তুলতে তুলতে হঠাৎ বিরল মার্গেঞ্জার পাখি দেখতে পান। হাঁটু পানিতে মাছসহ জলজ প্রাণি শিকার করছিল মার্গেঞ্জার। দেখা মাত্রই ক্যামেরায় ধারণ করে নেন পাখিটিকে। বেশ কয়েকটি ক্লিকেই ধারণ করেন উড়ন্ত পাতি মার্গেঞ্জারকে।
ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, শীত মৌসুমে পরিযায়ী পাখি তিস্তা নদীতে আসে। আমরা কয়েকজন সৌখিন ফটোগ্রাফার সারা বছর পাখির ছবি তুলি। তিস্তা নদীতে পাখির ছবি তোলার সময় পাতি মার্গেঞ্জার পাখিকে দেখতে পাই। এটি পরিযায়ী পাখি। মূলত শীত প্রধান দেশ থেকে তারা শীতকালে উত্তরাঞ্চলে চলে আসে। এর আগে আমি কখনো এই পাখিকে তিস্তা নদীতে দেখিনি। বছরের শেষ দিনে দূলর্ভ পাখিটির ছবি তুলতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমি যে পাখিটির ছবিটি তুলেছি সেটি মেয়ে মার্গেঞ্জার পাখি। ছেলে পাখিগুলো আরও দেখতে আকর্ষনীয় হয়। একে ইংরেজীতে ‘কমন মার্গেঞ্জার’ বলে।
তিনি বলেন, মার্গেঞ্জার পাখিটি রাজহাঁসের মতো। অনেক পাখি শিকারি তিস্তায় আসা পরিযায়ী পাখি শিকারের জন্য ওৎ পেতে থাকে। জীবন রক্ষা করতে শীতপ্রধান দেশ থেকে শত শত কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পরিযায়ী পাখিরা উত্তরাঞ্চলে আসে। তাই এসব পাখি রক্ষায় প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
জানা যায়, পাতি মার্গেঞ্জার পাখি প্রবাহমান নদী ও নালয় বিচরণ করে তারা স্রোতের বিপরীতে পানিতে ডুব দিয়ে মাছ শিকার করে। সেই সাথে জলজ পোকামাকড়, ব্যাঙ, চিংড়ি মাছ, শামুক জাতীয় প্রাণিসহ লতাপাতা খায়। গাছের প্রাকৃতিক গর্তে এরা আবর্জনা ও কোমল পালকের স্তুপ বানিয়ে ৬ থেকে ১৭টি ডিম পাড়ে। এরপর ২৮ থেকে ৩২ দিনে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।
সামাজিক বন বিভাগ রংপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রতি বছর শীত মৌসুমে তিস্তা নদীতে বিরল পরিযায়ী পাখিরা আসে। পাখি শিকারীদের হাত থেকে এসব পাখি রক্ষায় সামাজিক বন বিভাগের একটি টহল টিম বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছে। সেই সাথে প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।