চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৫ ১২:৫৬ পিএম
চিন্ময় দাসের শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালতের মূল ফটকে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রবা ফটো
চট্টগ্রামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো.সাইফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মফিজুল হক ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন শুনানিতে অংশ নিতে আদালতে পৌঁছেন সুপ্রিম কোর্টের ১১ আইনজীবীর একটি দল।
শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীসহ শতাধিক আইনজীবী শ্লোগান দিয়ে আদলত থেকে নিচে নেমে আসে।
সেখানেই মফিজুল হক ভূঁইয়া জানান, চিন্ময়ের পক্ষে ১১ জন আইনজীবী শুনানীতে অংশ নিয়েছেন। তারা আসামি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন যুক্তি উপস্থাপন করে জামিন আবেদন করেছে। তখন রাষ্ট্রপক্ষ এটি জামিন অযোগ্য ধারার মামলা সেই কারণে জামিন না দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়েছে। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেছে।
এসময় প্রসিকিউটরের সঙ্গে থাকা আইনজীবীরা শ্লোগান দিতে থাকেন। পাশ থেকে এক জন যোগ করেন, শুধু জামিন অযোগ্য না এই মামলার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এই কথাও আমরা বলেছি এই কারণে জামিন নামঞ্জুর হয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পরই চিন্ময় কৃষ্ণের আইনজীবীরা নেমে আসেন। তবে তখন এক ধরণের হুড়োহুড়ি শুরু হয়। কড়া পুলিশ পাহারায় তারা কালো রঙের একটি মাইক্রোতে উঠে যান। তাদের লক্ষ্য করে আইনজীবীদের একটি অংশকে ভূয়া ভূয়া এবং দালাল বলে শ্লোগান দিতে দেখা যায়।
গত ৩১ অক্টোবর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে নগরের কোতোয়ালী থানায় মামলা করা হয়।
২৬ নভেম্বর চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ৩ ডিসেম্বর জামিন শুনানির দিন থাকলেও কোনও আইনজীবী না থাকায় শুনানির দিন ২ জানুয়ারি ধার্য ছিল।
গত বুধবার যে দুজনের জামিনের শুনানি ছিল, তাদের আইনজীবীও আসেননি।
এই শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিচারপ্রার্থীদের আদালত প্রাঙ্গণে ঢোকার আগে কাগজপত্র যাচাই করা হয়। আদালতের দুটি ঢোকা ও বেরোনোর পথে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, বিজিবি ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়।