× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খড়ের আঁটির বাজার

শফিক সরকার, ময়মনসিংহ

প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৪:৪১ পিএম

ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে মুক্তাগাছার নতুন বাজারে চলছে খড়ের আঁটি বেচাকেনা। প্রবা ফটো

ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে মুক্তাগাছার নতুন বাজারে চলছে খড়ের আঁটি বেচাকেনা। প্রবা ফটো

দেশে গরু পালন আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেভাবে বাড়েনি গোখাদ্যের জোগান। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতি বছরই গোখাদ্যের সংকট দেখা দেয়। বছরজুড়েই খামারিরা শুকনো খড় সংগ্রহ করেন কৃষকদের কাছ থেকে। কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেউবা হাট-বাজার থেকে।

তবে শুধু খড়ের আঁটি বিক্রির জন্য আলাদা বাজার দেখা গেছে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়। এখানে প্রতিদিন খড় বিক্রির বাজার বসে। বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যানে করে খড়ের আঁটি তোলা হয় এই বাজারে। সড়কের দুই পাশে সারি সারি ভ্যানে করে খড়ের আঁটি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বিক্রেতাদের। 

ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে মুক্তাগাছার নতুন বাজারে প্রতিদিন দুপুরের পর খড়ের আঁটির বাজার বসে। এই সড়ক দিয়ে গেলেই চোখে পড়বে এই বাজার। বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যানে করে আঁটি নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। বিশেষ করে জামালপুরের চরাঞ্চল থেকে বেশিরভাগ আঁটি আনা হয় এই বাজারে। ওই অঞ্চলে ধান আবাদের তুলনায় গরু পালন কম। এ কারণে ওই অঞ্চলের কৃষকরা খড় বিক্রি করতে ভ্যানে করে নিয়ে আসেন মুক্তাগাছায়। অনেকেই কৃষকদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে আমন আবাদের আঁটি সংগ্রহ করেন। প্রতি আঁটি কৃষকদের কাছ থেকে সাড়ে ৭ টাকা করে কিনে সাড়ে ৮ টাকায় বিক্রি করেন। এই বাজারে মুক্তাগাছাসহ পাশের কয়েকটি উপজেলার ক্রেতারা খড় কিনতে বাজারে আসেন। তবে বুধবার সাপ্তাহিক হাট হওয়ায় এই দিন এখানে আঁটির বাজার বসে না। এ ছাড়া সপ্তাহের বাকি দিন আঁটির বাজার বসে এখানে। 

বাজারে খড়ের আঁটি কিনতে আসা মুক্তাগাছার তারাটি গ্রামের সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার পাঁচটি গরু রয়েছে। সব দুধের গরু। আমার ধান আবাদের তেমন জমি নেই। এ কারণে বছরজুড়ে গোখাদ্য বাজার থেকে কিনতে হয়। ধান আবাদের মৌসুমে বাজার থেকে খড় কিনে সংগ্রহ করি। 

তিনি আরও বলেন, একসময় খড় বাজার থেকে কিনতে হতো না। গ্রামেই পাওয়া যেত, কিন্তু ধান আবাদ কমে যাওয়ায় এখন আর গ্রামে খড় পাওয়া যায় না। ফলে চড়া দামেই বাজার থেকে খড়ের আঁটি কিনতে হচ্ছে। গরু বাঁচাতে তারা চড়া দামেই কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান। 

জামালপুরের নুরুন্দি থেকে ভ্যানে করে আঁটি নিয়ে বাজারে হাজির হয়েছেন মিরাজ আলী। তিনি বলেন, কৃষকদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে আঁটি সংগ্রহ করে, এখানে বিক্রি করার জন্য নিয়ে এসেছি। কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি আঁটি সাড়ে ৭ টাকা করে কিনে সাড়ে ৮ টাকায় বিক্রি করি। আজ বিক্রির জন্য ভ্যানে প্রায় দেড় হাজার আঁটি রয়েছে। ধান আবাদের মৌসুম এলে প্রতি বছর এখানে আঁটি নিয়ে হাজির হই। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় তুলনামূলকভাবে গরু পালন বেশি হওয়ায় এই হাটে আঁটি নিয়ে আসি। 

তিনি আরও বলেন, এই আঁটি বিক্রি করেই সংসার চলে। সারা বছর কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা আঁটি সংগ্রহ করি। সেই সঙ্গে খড়ের পাল্লা কিনে রাখি। 

ময়মনসিংহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ওয়াহিদুল আলম বলেন, তুলনামূলকভাবে প্রতিটি উপজেলায় গরু পালনের উৎসাহ বেড়েছে। সেইভাবে ধান আবাদের ফসল বাড়েনি। এ কারণে গোখাদ্যের সংকট দেখা দেয়। আর এ সময় গরুর মালিকরা বিভিন্ন এলাকা থেকে আঁটি কিনে জমা করে রাখেন। সারা বছর তারা সেখান থেকে গরুর খাদ্য ব্যবহার করেন। এ ছাড়া সরকারিভাবে গরু ছাগলের খাস আবাদ করা হয়। সেখান থেকেও গোখাদ্য সরবরাহ করা হয়। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা