কালিদাস রায়, নাটোর
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৩:২৯ পিএম
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার শেখপাড়া এলাকায় বরই বাগানে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রাকিবুল ইসলাম। প্রবা ফটো
শূন্য থেকে শুরু করে প্রতিকূল পথ ধরে কঠোর পরিশ্রমে অনেক শিক্ষিত বেকার তরুণ সফল হয়েছেন। উদ্যোক্তা হিসেবে সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার শেখপাড়া এলাকার তরুণ উদ্যোক্তা রাকিবুল ইসলাম তাদেরই একজন। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে হয়ে উঠেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। ইতোমধ্যে লেবুবাগানের পাশাপাশি বরই চাষে সাফল্য কুড়িয়েছেন। রাকিবুল একই এলাকার আব্দুল কুদ্দুস মণ্ডলের ছেলে।
নিম্নবিত্ত পরিবারে পাঁচ সন্তানের মধ্যে চতুর্থ রাকিবুল। সংসারে আর্থিক অনটনের কারণে এইচএসসি পাশের পর লেখাপড়া ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর স্বল্প পরিসরে লেবুর বাগান ব্যবসা শুরু করেন। এতেও যেন তার মন পরিতৃপ্ত হচ্ছিল না। আড়াই বছর আগে একদিন এক উদ্যোক্তার বরই বাগান দেখতে যান। সেখানে তিনি ‘ভারত সুন্দরী’ বা ‘বল সুন্দরী’ জাতের বরইয়ের বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিগেও বরই চাষের পরিকল্পনা করেন। লেবুবাগানের ব্যবসা থেকে সঞ্চিত ২ লাখ ২৮ হাজার টাকা দিয়ে ৮ বছরের জন্য ৬৬ শতক জমি লিজ নেন। ওই জমিতে তিন শতাধিক ভারত সুন্দরী জাতের চারাগাছ রোপণ করেন। সাথী ফসল হিসেবে বাগানে থাই পেয়ারার চারা রোপণ করেন। প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না থাকলেও অভিজ্ঞ কৃষি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত পরামর্শ ও ব্যবহারিক জ্ঞান তার বাগানে কাজে লাগিয়েছেন। এরপর তাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। চলতি মৌসুমে তিনি দ্বিগুণ লাভের স্বপ্ন দেখছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাকিবুলের বরই বাগানে ভারত সুন্দরী জাতের বরইয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। বেশিরভাগ বরই পেকে গেছে। ইতোমধ্যে তিনি বরই বাজারজাত করা শুরু করেছেন। বাগানে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক মজুরি খাটছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে উৎসাহী তরুণ ও চাষিরা তার বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন ও পরামর্শ নিচ্ছেন। তবে বরই চাষে সার ও কীটনাশকের পরিমাণ বেশি লাগে। বাজারে ভেজাল সার ও কীটনাশকের দৌরাত্ম্য ও সিন্ডিকেট দূর করার দাবি জানিয়েছেন রাকিবুল ইসলামের মতো উদীয়মান চাষি ও উদ্যোক্তারা।
রাকিবুল ইসলাম জানান, বাজারে ভারত সুন্দরী জাতের বরইয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিক্রি করা নিয়ে চিন্তা হয়নি। ইতোমধ্যে বাগানে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চলতি বছর প্রতি মণ বরই ৫ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে ৬ লাখ টাকার বরই বিক্রির আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, আগামীতে ৮-১০ বিঘা জমিতে বরইয়ের বাগান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি অত্র এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, গত মৌসুমে জেলায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে বরইয়ের চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৪ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে ৩৬০ হেক্টর জমিতে বরইয়ের চাষ হয়েছে। অন্যদিকে বাগাতিপাড়া উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে বরইয়ের চাষ হয়েছে। এ ছাড়া জেলায় অগ্রসরমাণ কৃষকের সংখ্যা ৩৩৮ জন। ক্রমেই জেলায় অগ্রসরমাণ কৃষকের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তরটি।
বাগাতিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. ভবসিন্ধু রায় জানান, বরইয়ের অন্যান্য জাতের মধ্যে ‘ভারত সুন্দরী’ বা ‘বল সুন্দরী’ জাতের কুল বেশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। দেখতে সুন্দর, আকর্ষণীয়, সুস্বাদু, পুষ্টিগুণ-সম্পন্ন ও মাংসাশী এর অন্যতম কারণ। কুল চাষ সম্প্রসারণে অন্যান্য চাষির মতোই তরুণ উদ্যোক্তা রাকিবুল ইসলামকে আমরা বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা করে যাচ্ছি। আশা করছি তিনি আরও সফল হবেন।