× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বাড়ছে রপ্তানির নতুন ক্রয়াদেশ

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৮:০২ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

করোনা বিপর্যয়ের আগে ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৮ বছরে ৩১টি জাহাজ রপ্তানি করে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। একই সময়ে দেশি ক্রেতাদের জন্যও কন্টেইনার জাহাজ, অয়েল ট্যাংকার, টাগবোটসহ বিভিন্ন ধরনের ৫০টি জলযান তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে ২০১৯ সালে সেটি শূন্যের ঘরে নেমে আসে। এরপর ২০২০ সালে দুটি বাল্ক কেরিয়ার জাহাজ রপ্তানি করলেও গত চার বছরে বড় ধরনের আর কোনো জাহাজ রপ্তানি করতে পারেনি শিপইয়ার্ডটি। তবে গত চার বছরে ৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারে দুটি অয়েল ট্যাংকার, দুটি টাগবোট ও তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট রপ্তানি করে ওয়েস্টার্ন মেরিন।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, করোনাকালীন বৈশ্বিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কমে যাওয়ায় জাহাজ নির্মাণের ক্রয়াদেশ কমে যায়। যার প্রভাব পড়েছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডে। 

শুধু ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড নয়, করোনার কারণে একই অবস্থায় পড়েছিল নারায়ণগঞ্জের আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড স্লিপওয়েজ লিমিটেড, খুলনা শিপইয়ার্ডসহ দেশের অন্যান্য জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানও। বৈশ্বিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কমে যাওয়ায় তখন জাহাজ নির্মাণের ক্রয়াদেশ কমে আসে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে বাংলাদেশ থেকে কোনো জাহাজ রপ্তানি হয়নি। বাংলাদেশ থেকে সর্বশেষ জাহাজ রপ্তানি হয়েছে ২০২২ সালে। ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ডেনমার্কে একটি জাহাজ রপ্তানি করে নারায়ণগঞ্জের আনন্দ শিপইয়ার্ড। এরপর আর কোনো জাহাজ রপ্তানি হয়নি। 

নতুন করে ক্রয়াদেশ আসতে শুরু করেছে

জাহাজ নির্মাণ শিল্পের এই কঠিন অবস্থা এখন পাল্টাতে শুরু করেছে। নতুন করে ক্রয়াদেশ আসছে। দীর্ঘদিন রপ্তানি বন্ধ থাকার পর আগামী বছর ছয়টি জাহাজ বিদেশে রপ্তানি করতে যাচ্ছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। এর মধ্যে নতুন বছরের শুরুতে ২৫ জানুয়ারি আরব আমিরাতের কাছে একটি জাহাজ হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। 

সূত্র জানাচ্ছে, আগামী ১৪ মাসে অন্তত ৮টি জাহাজ বিদেশে রপ্তানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। এর মধ্যে আগামী জানুয়ারি মাসে আরব আমিরাতের এক ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে ‘রায়ান’ নামের একটি ল্যান্ডিং ক্রাফট জাহাজ। এরপর এপ্রিল মাসে একই ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করা হবে ‘খালিদ’ ও ‘ঘায়া’ নামে দুটি টাগবোট। জুলাই মাসে দুটি এবং ডিসেম্বর মাসে একটি ল্যাল্ডিং ক্রাফট জাহাজ রপ্তানি করা হবে আরব আমিরাতে। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দুটি অয়েল ট্যাংকার জাহাজ রপ্তানি করা হবে। ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্রয়াদেশ পেয়ে ইতোমধ্যে জাহাজ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। 

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপেটন সোহেল হাসান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘মহামারি করোনার সময় জাহাজ নির্মাণ শিল্প সংকটের মুখে পড়ে। তখন সারা বিশ্বেই জাহাজ নির্মাণের ক্রয়াদেশ কমতে থাকে। মহামারি শেষ হওয়ার পরও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে এই শিল্প অনেক দিন ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এ অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই অনেক শিপইয়ার্ড বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের পাশের দেশ ভারতেও অনেক শিপইয়ার্ড বন্ধ হয়ে গেছে। তখন আমরাও অনেক সংকটে পড়ে যাই। বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় তখন আমরা দেশের ক্রেতাদের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ি।’ 

তিনি বলেন, ‘এখন সেই পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে। বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে আমরা জাহাজ নির্মাণের নতুন নতুন ক্রয়াদেশ পাচ্ছি। ইউরোপ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমরা অন্তত ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্রয়াদেশ আশা করছি। ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৭২ লাখ মার্কিন ডলারের ৮টি জাহাজের ক্রয়াদেশ পেয়েছি। সেখান থেকে আরও ক্রয়াদেশ আসছে।’

ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে দুই কারণ

দেশীয় জাহাজ শিল্প ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে দুটি বিষয় কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, ইতোমধ্যে ইউরো জোন ক্রাইসিসের সমাধানসহ বৈশ্বিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বেড়ে গেছে। এ কারণে বিদেশি অনেক ক্রেতা আবারও জাহাজ তৈরিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, সরকার ২০২১ সালে জাহাজ নির্মাণ শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা করে দেওয়ায় জাহাজ নির্মাণ শিল্প উদ্যোক্তারা করোনার পর আগের চেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। এ দুই কারণে এখন জাহাজ নির্মাণ শিল্প ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। 

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ইউরো জোন ক্রাইসিস শুরু হলে বিদেশি ক্রেতারা তহবিল সংকটে পড়ে। ফলে সারা বিশ্বেই নতুন জাহাজ নির্মাণ কমে আসতে থাকে। এই সংকটের পাশাপাশি করোনাকালীন বৈশ্বিক মন্দায় সারা বিশ্বের জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়। লোকসানে পড়ে অনেক শিপইয়ার্ড বন্ধ হয়ে যায়। পৃথিবীর অন্যান্য শিপইয়ার্ডের মতো বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ব্যাপক লোকসানে পড়ে। অর্ডার কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতারা নির্ধারিত সময়ে জাহাজ ডেলিভারি না নেওয়ায় ঋণের ফাঁদে পড়ে শিপইয়ার্ডগুলো। ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়।

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এই অবস্থায় দেশের ভারী শিল্প খাতের অন্যতম একটি খাত হিসেবে জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এবং সে কারণে ২০২১ সালে জাহাজ নির্মাণ শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা করা হয়।

নীতিমালার বিশেষ কয়েকটি দিক 

২০২১ সালের ওই নীতিমালায় দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জাহাজ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ৫ হাজার ৫০০ ডিডব্লিউটি বা ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের নিচে সকল ধরনের জাহাজ আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়।

এতে শুধু জাহাজ আমদানি নিষিদ্ধই নয়, কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে অন্যান্য রপ্তানি শিল্পের ন্যায় বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। নীতিমালায় জাহাজ ও জাহাজ সম্পর্কিত অন্যান্য সামগ্রী রপ্তানিতে সরকার প্রদত্ত নগদ সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হয় এবং সহায়তার পরিমাণও বাড়ানো হয়; জাহাজ নির্মাণ শিল্প বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এডিআর কর্মসূচি নেওয়া হয়; সরকারি উদ্যোগে বিদেশে এ শিল্পে নিয়োজিত জনশক্তিকে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। 

নীতিমালায় বলা হয়, গুণগত মান বজায় রেখে কম খরচে বাংলাদেশে নির্মাণ করা সম্ভব এমন জাহাজ নির্মাণে স্বদেশি পণ্যের ব্যবহারে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হবে। দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের যথাযথ বিকাশে মেরিন ইনস্যুরেন্সসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ইনস্যুরেন্স সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এরকম বিবিধ কারণে এখন জাহাজ নির্মাণ শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। দেশের বাজারেও বাড়ছে জাহাজ নির্মাণ। দেশি ক্রেতারাও এখন নতুন জাহাজ তৈরিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা