বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ০১:১৫ এএম
দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের জায়গায় বসে আছেন ত্রিপুরা খ্রিষ্টান পাড়ার বাসিন্দারা। ছবি: সংগৃহীত
বান্দরবানের লামায় আগুনে পুড়ে গেছে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ১৭টি বসতঘর। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়ে তাদের বসতঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার সরই ইউনিয়নের নতুন তংগঝিরিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, লামা উপজেলার সরইয়ের তংগঝিরিপাড়ার এসপি বাগানে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ১৯টি পরিবারের বসবাস। পাড়াটি তংগঝিরি নতুনপাড়া নামে পরিচিত। বড়দিনের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে পাড়ার বাসিন্দারা পাশের তংগঝিরিপাড়ার গির্জায় যায়। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা পাড়ার বসতঘরগুলোতে আগুন দেয়। এতে সেখানকার ১৭টি বসতবাড়ি পুড়ে যায়। কে বা কারা এ আগুন দিয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কোনো সূত্র।
তবে নতুন তংগঝিরিপাড়ার প্রধান (কার্বারি) পাইসাপ্রু ত্রিপুরার অভিযোগ, তাদের ভোগদখল করা জমি কথিত এসপির লোকজন দখল করে তাদের বিতাড়িত করার চেষ্টা করেছিল। গত ৫ আগস্টের পর ওই এসপির লোকজন এলাকা ছেড়ে চলে গেলে সেখানে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ১৯টি পরিবার বসবাস শুরু করে। তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বড়দিন উপলক্ষে পাশের পাড়ার গির্জায় সবাই প্রার্থনা করতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাদের ১৭টি বসতঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
এ ব্যাপারে সরই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস কোম্পানি গতকাল দুপুরে বলেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ড তংগঝিরি এলাকার নতুন তংগঝিরিপাড়ায় গত রাতে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে ১৭টি ঘর পুড়ে গেছে বলে শুনেছি। সরেজমিনে দেখার জন্য ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।
লামা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রূপায়ণ দেব প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নতুন তংগঝিরিপাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। সেখানে হিংসাত্মকভাবে ১৭টি ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ দেওয়ার জন্য পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। আপাতত ১৭টি পরিবারের জন্য কম্বল, খাবারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে।
লামা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত-ওসি) মো. এনামুল হক ভূঁইয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সরই ইউনিয়নের তংগঝিরি এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। গত ৫ আগস্টের পর ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে পাল্টা অভিযোগ ও বেদখল সংক্রান্ত ঘটনা রয়েছে। যথাযথ তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।