সিলেট অফিস
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ০০:৩৪ এএম
আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:০০ এএম
নিহত হেলাল মিয়া উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের ঘোষগ্রামের বাসিন্দা। ছবি : সংগৃহীত
সিলেটের গোয়াইনঘাটে গরু চুরির অপবাদে গণপিটুনি দিয়ে চুনা ও বালুমিশ্রিত অ্যাসিডপানি পান করিয়ে হেলাল মিয়া (৩২) নামের এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার ভোরে মধ্যজাফলং ইউনিয়নের জাফলং চা-বাগানে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত মঙ্গলবার উপজেলার মধ্যজাফলং ইউনিয়নের জাফলং চা-বাগানে রাতভর যুবককে মারধর করা হয়। নিহত হেলাল মিয়া উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের ঘোষগ্রামের মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার তোফায়েল আহমেদ।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। চার মিনিট সাত সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রামের একটি মাঠের মধ্যে এক যুবক ও কিশোরকে ঘিরে মানুষের জটলা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মোবাইলে ভিডিও করছিলেন। হেলালকে চিৎ করে মাটিতে ফেলে তার পিঠের ওপর ওঠেন লুঙ্গি ও সাদা গেঞ্জি পরা এক যুবক। তখন হেলালের হাত পিছমোড়া করে বাঁধা ছিল।
এরপর ওই ব্যক্তি হেলালের পা দুটি ওপর দিকে তুলে ধরেন; তখন তার পায়ের পাতায় লাঠি দিয়ে আরেকজন বেধড়ক পেটাতে থাকে। এ সময় হেলাল চিৎকার করছিলেন। একটু পরে ওই ব্যক্তি হেলালের মুখ মাটিতে রেখে তার ঘাড়ের ওপর বসেন। তারপর আরেকজন তার পায়ের পাতা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বাঁশ দিয়ে পেটাতে থাকেন।
পাশেই পিছমোড়া করে বেঁধে রাখা হয়েছিল আরেক কিশোরকে। সে হাঁটতে পারছিল না। পরে ওই কিশোরকে দিয়েও হেলালকে পেটানো হয়। জড়ো হওয়া লোকজন গরু চুরি নিয়ে কথা বলছিলেন। সেখানে একটা লাল গরুও ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার বিকালে মধ্যজাফলং চা-বাগানে গরু চুরির অভিযোগে ইসলামপুর গাংপার গ্রামের মোশাররফ হোসেন, আমির উদ্দিন, সালাম ও তাদের সহযোগীরা গরু চুরির অভিযোগ এনে হেলালকে ধরে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করেন এবং চুনা ও বালুমিশ্রিত প্রায় এক লিটার অ্যাসিডপানি জোর করে পান করানো হয়। একপর্যায়ে হেলাল অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে মধ্যজাফলং ইউনিয়ন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতভর সেখানে রেখে হেলালকে আরও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে গতকাল বুধবার ভোরে হেলালের স্বজনরা মধ্যজাফলং ইউনিয়ন অফিস থেকে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে হেলাল রাস্তায় বমি করেন এবং তার শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের পরিবারের লোকজন। তাদের অভিযোগ, পুলিশের অবহেলার কারণেই হেলালের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সময়মতো হেলালকে উদ্ধার করলে এভাবে দফায় দফায় মারধর করার সুযোগ পেত না মোশাররফ গং।
গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের এসআই প্রভাকর বড়ুয়া জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে তিনি হেলালকে উদ্ধার করতে যান। তবে স্থানীয়রা তাকে বলেন হেলাল উদ্দিনকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তারপর তিনি ঘটনাস্থলে হেলালকে রেখে চলে আসেন।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার ওসি সরকার তোফায়েল আহমেদ বলেন, অতিরিক্ত মারধর এবং চুনা-বালুমিশ্রিত পানি খাওয়ানোর কারণে হেলালের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন বলেন, আমি মারধর করিনি। এলাকার মানুষ মারধর করেছেন। আমি শুধু ঘটনাস্থলে ছিলাম।