সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১২:৩৯ পিএম
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের শাহেদল ইউনিয়নের আশুতিয়া বাজারে পাঁচ দিনব্যাপী পিঠা মেলায় বসেছে বাহারি ও নান্দনিক পিঠাপুলির আয়োজন। মঙ্গলবার তোলা। প্রবা ফটো
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের শাহেদল ইউনিয়নের আশুতিয়া বাজারে পাঁচ দিনব্যাপী পিঠা ও ফার্নিচার মেলায় বসেছে বাহারি ও নান্দনিক পিঠাপুলির আয়োজন। মেলায় বাহারি নামের পিঠার স্বাদে তৃপ্ত ভোজনরসিকরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে গত ২১ ডিসেম্বর রাতে শুরু হওয়া পিঠা মেলাটি শেষ হবে আজ।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মেলায় নারী ও শিশুদের সরব উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ আনন্দ-উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। শিশুরা মেলায় এসে নতুন নতুন পিঠার নাম জেনে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। শীতের হিমেল হাওয়ার মধ্যে বাহারি পিঠার পসরা নিয়ে বিভিন্ন স্টল ও ফার্নিচার দোকান মেলায় আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। সব মিলিয়ে গোটা শাহেদল ইউনিয়নসহ আশপাশ এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিভিন্ন পিঠার স্টলে ভিড় করেছেন তরুণ-তরুণীরা আর পিঠারসিকরা। কেউ বাহারি নামের এসব পিঠা কিনতে আবার কেউবা এসব পিঠার সৌন্দর্য দেখতে ভিড় করছেন। এখান থেকে পিঠা কিনে নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে অনেককেই। পিঠা উৎসবে মোট ১০টি স্টল সাজানো হয়েছে। এসব স্টলে নানা নামের ও স্বাদের বাহারি পিঠা নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছেন উদ্যোক্তারা।
স্টলগুলোতে রয়েছে বাহারি পিঠা। এর মধ্যে আওলাঝাওলা, ডাল বড়া, বাবুই বাদশা, ভাঁপা, চেপা, আন্দেশা, গোলাপ নকশি, কালো মিষ্টি, করোনাভাইরাস পিঠা থেকে শুরু করে রুই মাছের পিঠা, মায়ের হাতের মিনি পিঠা, চমচম পিঠা, জামাই পিঠা, পাকন পিঠা, নুরের ঝাল, পায়া, পাটিসাপ্টা, নকশি, কাজু বরফি, জালি পিঠাসহ রয়েছে বিভিন্ন নামীয় পিঠা। পিঠা ছাড়াও এই মেলায় কাঠের তৈরি ফার্নিচার, কসমেটিকস সামগ্রী, বিভিন্ন পদের আচার ও মিষ্টিসহ দেশীয় খাদ্য পাওয়া যাচ্ছে। যা বাড়তি আমেজ যোগ করেছে স্থানীয় গ্রামীণ পরিবেশে।
পিঠা দোকানি আহম্মেদ সিদিকী হাসনাত বলেন, মেলায় নানা রকমের পিঠা নিয়ে এসেছি। বিক্রিও হচ্ছে ভালো। আশা করছি এবার মেলায় লাভবান হব। মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি মো. আজিজুল হক বলেন, উৎসব আর পিঠার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই পিঠা মেলা। পিঠা মেলার আয়োজন ঘিরে এখানে রাতে বাউলগানসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। ফলে দিন দিন মেলার আকর্ষণের সঙ্গে সঙ্গে এর সুনামও ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্রই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, দশ বছর ধরে এ অঞ্চলে শীতকালীন পিঠা মেলা হয়ে আসছে। এতে গ্রামের তরুণ-তরুণীরাও আনন্দ সহকারে অংশ নিচ্ছেন। মেলা ঘিরে এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।