সুনামগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১২:৩৬ পিএম
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শনির হাওর ও মাটিয়ান হাওরের পানি সরছে। ধীরে ধীরে ভেসে উঠছে হাওরের জমি। অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে বীজ রোপণ শুরু করেছে কৃষক। ইতোমধ্যে মোট জমির ১০ শতাংশ আবাদ শেষ হয়েছে। গত সোমবার তোলা। প্রবা ফটো
হাওরে বোরো ধান আবাদ শুরু করেছেন কৃষকরা। ধীরে ধীরে জমি থেকে পানি নামছে, আর কৃষকরা জমি চাষ শেষে শুরু করেছেন বীজ রোপণ। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার পর্যন্ত হাওরের ১৫ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আবাদ শেষ হয়েছে, যা হাওরের মোট ১০ ভাগ।
গত সোমবার তাহিরপুর শনির হাওর ও মাটিয়ান হাওরে দেখা যায়, হাওরের অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে বীজ রোপণ করছেন কৃষকরা। ধীরে ধীরে হাওরের জমি ভেসে উঠছে, আর কৃষকরা চাষ শেষে বীজ রোপণ করছেন। তবে বেশিরভাগ হাইব্রিড জাতের বীজ রোপণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মিথালি চার, শক্তি দুই, শক্তি তিন, বেবিলন, সাতষট্টি, চুয়াত্তর জাতের ধান। দেশি জাতের মধ্যে বেশি আবাদ হয় গচি জাতের ধান।
মাটিয়ান হাওরের কৃষক মো. ফারুক মিয়া জানান, এবার ১৭ কেয়ার (৩০ শতাংশে এক কেয়ার) জমিতে হাইব্রিড জাতের বোরো ধান আবাদ করবেন। ক্ষেত থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। যে জমি থেকে পানি নেমেছে, সেটা চাষ করে তাতে বীজ রোপণ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে চার কেয়ার জমিতে রোপণের কাজ শেষ হয়েছে। পুরোপুরি শেষ হতে আরও এক মাস সময় লাগবে।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা কৃষক রিংকু তালুকদার বলেন, এবার হাইব্রিড জাতের ঝলকরাজ ধান রোপণ করেছি। বীজতলায় বীজ প্রস্তুত হতে দেরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিন কেয়ার জমিতে রোপণ শেষ করেছি। আরও চার কেয়ার জমিতে বীজ রোপণ বাকি আছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা থেকে ৯ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত রবিবার পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা বোরো আবাদ শেষ করেছেন।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, পুরোপুরি রোপণ শুরু না হলেও রবিবার পর্যন্ত হাওরের ১০ ভাগ জমিতে রোপণ শেষ করেছেন কৃষকরা। পুরোপুরি শেষ করতে আরও এক মাস সময় লাগবে। কৃষকরা যেন কোনো সমস্যায় না পড়েন, সেজন্য আমরা সব সময় পরামর্শ ও সহযোগিতা করছি। এবার আমাদের ৯ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।