এম পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১২:১৮ পিএম
মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ও বহরবুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর সুতালড়ী গ্রামের খালের ওপর নির্মিত কাঠের পুলটি দুই বছর আগে ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে গ্রামবাসীর উদ্যোগে নির্মাণ করা বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে আট গ্রামের মানুষ। গত সোমবার তোলা। প্রবা ফটো
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের দুই ইউনিয়নের আট গ্রামের ২৫ হাজার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা এখন একটি বাঁশের সাঁকো। খালে ভেঙে পড়া কাঠের পুলের স্থানে দুই বছরেও নির্মাণ হয়নি নতুন পুল কিংবা সেতু। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী, শিশু ও অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি এখন চরমে। স্থানীয়দের দাবি গুরুত্বপূর্ণ এই চলাচলের স্থানটিতে একটি সেতু নির্মাণের।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোরেলগঞ্জ উপজেলোর বারইখালী ও বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর সুতালড়ী গ্রামের খালের ওপর নির্মিত কাঠের পুলটি দুই বছর আগে ভেঙে পড়ে। এরপর এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানটিতে নির্মাণ করা হয়নি সেতু। এতে প্রতিনিয়ত বারইখালী ও বহরবুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর সুতালড়ী, সূর্যমুখী, পূর্ব কাটাখাল, বেতবুনিয়া, ফুলহাতা, বহরবুনিয়া, নারিকেলবাড়ীয়া ও ঘষিয়াখালী গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে। সাঁকোটি পার হয়ে প্রতিদিন ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুটি কলেজ, চারটি মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায়। এ ছাড়া আশপাশে মসজিদের মুসল্লিরা নামাজ আদায়ে যেতে হয়। প্রতিনিয়ত সেবা নিতে এলাকার মানুষকে যেতে হয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ, ফুলহাতা বাজার, বহরবুনিয়া বাজার, ঘষিয়াখালী বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে।
এ ছাড়া সড়ক পথে বহরবুনিয়ার শেষ প্রান্ত ঘষিয়াখালী হয়ে বারইখালী ফেরিঘাট অভিমুখী ১৩ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিয়ে উপজেলার শহরমুখী হতে হয় দুই ইউনিয়নের মানুষকে। পুলটি ভেঙে পড়ার পর থেকেই যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে গ্রামবাসী। ইতোমধ্যে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়েছে বৃদ্ধ, শিশু শিক্ষার্থীসহ অনেককেই। এ দুই ইউনিয়নের মানুষের এখন উপজেলা শহর প্রাণকেন্দ্রে পৌঁছার একমাত্র মাধ্যম লঞ্চ, ট্রলার ও নৌকা।
অবসরপ্রাপ্ত নেছার উদ্দিন, ফারুক হাওলাদার, রহিমা আক্তার চম্পা, মাদ্রাসা শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম হাওলাদারসহ গ্রামের একাধিক বাসিন্দা বলেন, পুলটি ভেঙে যাওয়ার আগে নড়বড়ে থাকা অবস্থায়ই দু-তিন বছর ধরে শুনে আসছি এখানে একটি সেতু হবে। কর্মকর্তারা অনেকবার এসে পরিমাপ করে গেছেন। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। স্থানীয় গ্রামবাসীর চাঁদার টাকায় দু-তিনবার সাঁকোটি মেরামত করা হয়েছে। এ দুর্ভোগের শেষ কোথায়? আদৌ কি এখানে সেতু হবে? ভুক্তভোগী গ্রামবাসী এ দুর্ভোগ লাগবের জন্য বাঁশের এ সাঁকোটির স্থানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করারও দাবি জানান সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।
এ ব্যাপারে বারইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আউয়াল খান মহারাজ বলেন, উত্তর সুতালড়ী খালের ওপর পুলটিতে ইউনিয়ন পরিষদের একবারের বরাদ্দ থেকে ইতোমধ্যে সংস্কার করা হয়েছে। পরে আর কোনো মেরামত করা হয়নি। সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ার পর সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে মানুষ। ওই স্থানে সেতুর জন্য এলজিইডি দপ্তরে একটি প্রস্তাবনা দেওয়া রয়েছে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ভেঙে যাওয়া কাঠের পুলটির স্থানে এ বছর এডিপির বরাদ্দ থেকে পুনরায় নতুন পুল নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।