× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জাহাজে হত্যাকাণ্ড

সাত খুনে কাটছে না ধোঁয়াশা

চট্টগ্রাম অফিস ও চাঁদপুর প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০:২০ এএম

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:৪৩ এএম

চাঁদপুরের মেঘনায় সারবাহী জাহাজে সাত খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের সামনে নিহতদের স্বজনের আহাজারি। ছবি : সংগৃহীত

চাঁদপুরের মেঘনায় সারবাহী জাহাজে সাত খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের সামনে নিহতদের স্বজনের আহাজারি। ছবি : সংগৃহীত

সার ডাকাতি, জাহাজ শ্রমিকদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কিংবা মালিকদের ব্যবসায়িক বিরোধÑ এ বিষয়গুলো সামনে রেখে চাঁদপুরের মেঘনায় জাহাজে সাতজন হত্যার ঘটনায় তদন্ত করছে নৌ-পুলিশ। তারা বলছে, ঘুমের ওষুধ কিংবা চেতনানাশক খাইয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে নৌ-যান শ্রমিকদের। নৌ-পুলিশ বলছে, আহত জুয়েলের আঘাতের ধরন অন্যদের চেয়ে ভিন্ন। বিষয়টি তাদের ভাবনায় ফেলেছে। তিনি সুস্থ হলে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্যের জট খুলতে পারে।

চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে নোঙর করে রাখা এমভি আল বাখেরা কার্গো জাহাজ থেকে সোমবার মাথায় ও মুখে কোপানো পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এ ছাড়া গুরুতর আহত তিনজনকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মারা যান আরও দুজন। জাহাজটি বিসিআইসির ৮০০ টন ইউরিয়া সার নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে যাচ্ছিল সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী বন্দরে। 

নৌ-পুলিশ বলছে, এমভি আল বাখেরায় থাকা ইউরিয়া সার চুরি, জাহাজ শ্রমিকদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কিংবা মালিকদের ব্যবসায়িক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে তারা। পাশাপাশি জীবিত জুয়েল রানার গলায় আঘাতের পরিমাণ খুব কম। অন্যদের কোপানো হয়েছে নৃশংসভাবে। সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাইনিজ কুড়াল ও ছুরি জাহাজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

চাঁদপুর নৌ-পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, চেতনানাশক কিংবা ঘুমের ওষুধ খাইয়ে একে একে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে সাতজনকে। জুয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হত্যার কারণ জানা যাবে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বরাত দিয়ে বলেন, সাতজনের শরীরের আঘাতের ধরন আর আহত জুয়েলের আঘাতের ধরন আলাদা। সবার শরীরের মাথায় জখম বেশি। আর জুয়েলের শুধু গলায় জখম। বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে জুয়েলের চিকিৎসাসেবায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জুয়েল ফরিদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা।

এমভি আল বাখেরার মালিক ছয়জন। তাদের মধ্যে জাহাজের মালিক মাহাবুব মুর্শেদের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, মালিকদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক ঘটনার তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার চান তারাও। জাহাজের মাস্টার গোলাম কিবরিয়া বাকি শ্রমিকদের নিয়োগ দিয়েছেন। মালিকপক্ষ শুধু ইঞ্জিনচালক ও জাহাজের মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। গত শনিবার সকাল ৮টায় জাহাজটি চট্টগ্রাম থেকে ছেড়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় ইঞ্জিনচালক সালাউদ্দিনের সঙ্গে কথা হয় তার। তখন তারা ভোলার সংলগ্ন গজারিয়া নামক স্থানে ছিলেন। জাহাজের সব মালিকের বাড়ি ঢাকার দোহার উপজেলায়।

এদিকে জাহাজে খুন হওয়া সাত জনের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ মঙ্গলবার বিকালে হস্তান্তর করেছে নৌ-পুলিশ। পরিবারের খোঁজ না পাওয়ায় জাহাজের বাবুর্চি রানার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বাকি মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের স্বজনদের ২০ হাজার টাকার চেক ও নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। নিহতদের মধ্যে জাহাজের মাস্টার গোলাম কিবরিয়া (৫৫), তার ভাগিনা শেখ সবুজের (২৮) বাড়ি ফরিদপুর। মাজেদুল (১৬) ও সজিবুল ইসলামের (২৯) বাড়ি মাগুরা জেলায় আর সুকানি আমিনুর মুন্সী ও গ্রিজারম্যান সালাউদ্দিন মিয়া (৪০) নড়াইল জেলার বাসিন্দা। 

এ ঘটনায় হাইমচর মডেল থানায় অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত মাস্টার গোলাম কিবরিয়ারা স্বজনরা। নৌ-পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলছেন, হাইমচর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করা হবে। এই ঘটনায় আহত জুয়েলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জুয়েল সুস্থ হলেও ঘটনার কারণ জানা যাবে বলে তিনি দাবি করেন। ইতোমধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।

চাঁদপুরের মেঘনা নদীর হাইমচরের ঈশানবালার মাঝেরচর সংলগ্ন এলাকায় মালবাহী জাহাজে সাতজনকে কুপিয়ে খুনের ঘটনা ঘটে। সোমবার দুপুরে ৯৯৯-এ এমন নৃশংস খুনের ঘটনার খবরে ঘটনাস্থলে যায় নৌ-পুলিশ, কোস্ট গার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 

এদিকে নৌযান শ্রমিকরা বলছেন, এই ঘটনায় সরকারের উচ্চ মহল ও প্রশাসনের ভূমিকায় হতাশ তারা। এত বড় একটি ঘটনার বিষয়ে যে ধরনের তৎপরতা তারা আশা করেছিলেন সব মহলেই তার ব্যতিক্রম আচরণ দেখছেন তারা। এমনকি এই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র শ্রমিক জুয়েলের চিকিৎসা নিয়েও অবহেলার অভিযোগ করছেন তারা।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহ আলম ভুঁইয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সাতজনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জুয়েল নামে যিনি আহত অবস্থায় আছেন তাকে ঢাকা মেডিকেলের নাক কান গলা বিভাগের বারান্দায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখনও তার উন্নত চিকিৎসার কোনো লক্ষণ দেখলাম না। পুরো দিনে আশ্বস্ত হওয়ার মতো কোনো পদক্ষেপ দেখিনি। এত বড় একটা ঘটনা ঘটল, সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, নৌ উপদেষ্টা কারও কাছ থেকে কোনো পদক্ষেপের কথা শুনিনি। এই অবস্থায় শ্রমিকদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।’ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না দেখলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে শাহ আলম ভুঁইয়া বলেন, ‘২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গ্যারান্টি, নিহতদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা সরকারি অনুদানের ঘোষণা এবং আহত শ্রমিকের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত না করা হলে সারা দেশে নৌপথে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাবে শ্রমিকরা।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা