× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

১৪০ দিন পর তোলা হলো আন্দোলনে নিহত তরুণের লাশ

জয়পুরহাট প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৭:৫৫ পিএম

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৯:৪৫ পিএম

১৪০ দিন পর তোলা হলো আন্দোলনে নিহত তরুণের লাশ

দিনাজপুরের হাকিমপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত কলেজ শিক্ষার্থী মোহতাসিম হাসান ফাহিমের (নাঈম) লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের পারিবারিক কবর থেকে তার মরদেহ তোলা হয়।

এ সময় জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, জয়পুরহাট জেলা কারাগারের চিকিৎসক মো. শাহ আলম, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দিনাজপুরের হাকিমপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজার রহমান, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলামসহ নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

নিহত নাঈম জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক মণ্ডলের ছেলে। নাঈম হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের মানবিক বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষা বর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি।

মামলা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে দিনাজপুরের হাকিমপুর পৌর শহরে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের নির্দেশে হাকিমপুর উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হিলি রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের নিচে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে কয়েকজনকে মারধর করতে করতে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান। পরে সূর্য ও নাঈমকে পৌর মেয়র জামিল হোসেনের বাড়িতে টর্চার সেলে নিয়ে যান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সেখানে তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ফলে সেখানে সূর্য ও নাঈমের মৃত্যু হয়। পরে আসামিরা এ দুজনের লাশ গুম করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লে গভীর রাতে আটকে থাকা তরুণেরা কৌশলে পৌর মেয়রের বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

ওই তরুণেরা বিষয়টি সূর্যের পরিবারকে জানান। তখন তার বড় ভাই মো. সুজনসহ স্থানীয় লোকজন পৌর মেয়রের বাড়িতে গিয়ে নূর ও নাঈমের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। সেখানে থাকা বাড়ির লোকজন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিহত দুজনের অবস্থান জানায়নি এবং তাদের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেয়নি। পরদিন বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ওই দুজনের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলে হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাড়িতে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে রাতে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌর মেয়র জামিল হোসেনের বাড়ি থেকে সূর্য ও নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরেরদিন তাদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত সূর্যের বড় ভাই মো. সুজন বাদী হয়ে ১৯ আগস্ট সকালে হাকিমপুর থানায় মামলা করেন। এতে দিনাজপুর-৬ (নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক, পৌর মেয়র জামিল হোসেনসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ ও ৯০ থেকে ১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। দিনাজপুরের একটি আদালত নাঈমের মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আজ সোমবার দুপুরে নিহত নাঈমের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দিনাজপুরের হাকিমপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, নিহত নাঈমের মরদেহ সেসময় ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছিল। পরে নিহত আসাদুজ্জামান নূর ওরফে সূর্যের বড় ভাই মো. সুজন বাদী হয়ে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনায় হাকিমপুর থানায় মামলা করেন। মামলার পর আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ আজ উত্তোলন করা হয়েছে।

জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উত্তোলনের সময় তার পরিবার সহযোগিতা করেছে। মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা