রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২২ ১৩:১৪ পিএম
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২২ ১৫:২৬ পিএম
রাজশাহীর সাথে ভারতের নৈকট্যকে কাজে লাগাতে নৌরুট চালুর উদ্যোগ।
ভৌগলিকভাবে রাজশাহীর সঙ্গে ভারতের নৈকট্য রয়েছে। এই নৈকট্য কাজে লাগাতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া উত্তরের জনপদ রাজশাহী লাভবান হবে। সেই সঙ্গে আমদানি ব্যয় কমার পাশাপাশি রাজস্ব বাড়বে বাংলাদেশের, এমনটাই মনে করেন রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ। এক্ষেত্রে রাজশাহীর বিশাল পদ্মা নদী হতে পারে অন্যতম মাধ্যম। এনবিআর (কাস্টমস) ক্লিয়ারেন্স দিলেই চালু করা যেতে পারে রাজশাহী টু মুর্শিদাবাদ নৌরুট।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ এলাকার ধুলিয়ান হয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরসহ উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন নদী পথের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দেশের মধ্যে মোট ৭টি নৌবন্দর চালুর বিষয়ে ১৯৭৪ সালে তৎকালীর ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হয়। তবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেই সম্ভাবনা আঁধারেই রয়ে যায়।
বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্থলবন্দর (পানামা পোর্ট) দিয়ে ভারতীয় আমদানিকৃত পণ্য ট্রাকে করে রাজশাহী হয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌছে যাচ্ছে। এসব আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ছোট-বড় পাথর, পেয়াজ, আদা, রসুন, ফলসহ নানা ভোগ্যপণ্য। যদি এই রুটে সড়কের বদলে নৌরুট চালু করা যায়, তবে আমদানি ব্যয় কমার পাশাপাশি এক দিকে যেমন পরিবহণ ব্যয় কমবে তেমনি অল্প সময়ে অধিক পণ্য পরিহবণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রাজশাহীতে উৎপাদিত কৃষি পণ্য দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকার পাশাপাশি ভারতেও সরাসরি রপ্তানি সম্ভব হবে।
বিদ্যমান পদ্মা নদী পথে বার্জে করে সরাসরি মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান থেকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী হয়ে রূপপুর ও পাকশী দিয়ে আরিচা হয়ে ঢাকা পর্যন্ত পণ্য পরিবহণ সম্ভব। রাজশাহী থেকে পাকশী পর্যন্ত পদ্মা নদীর কিছু অংশে ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন। আর প্রয়োজন গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ নদী বন্দরে জনবলসহ এনবিআরের একটি দপ্তর স্থাপন।

রাজশাহীর ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনীতি গতিশীল করতে পদ্মা নদী ব্যবহার করে ভারতের সঙ্গে নৌরুট চালু ও রাজশাহীতে নৌবন্দর স্থাপনের বিষয়ে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি উভয় দেশের নীতি নির্ধাকদের সঙ্গে দফায় দফায় এনিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সুলতানগঞ্জ পোর্টে কাস্টমসের কার্যক্রম চালুকরণ বিষয়ে সোমবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে নগর ভবনে রাজশাহীর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার ও রাজশাহী চেম্বারের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
গোদাগাড়ী-ধুলিয়ান নৌরুটের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে রাজশাহীর যে নৈকট্য সেটাকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবো। মালদার ধুলিয়ানের সঙ্গে আমাদের গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জের নৌরুট চালু করা গেলে এই রুটে ব্যবসার বিশাল সম্ভবনা সৃষ্টি হবে। আমাদের আমদানি ব্যয় কমার পাশাপাশি রাজশাহীতে উৎপাদিত কৃষি পণ্য সহ অন্যসকল পণ্য আমরা ভারতে রপ্তানি করতে পারবো।’
তিনি আরও বলেন, এর জন্য শুধু প্রয়োজন রাজশাহী থেকে পাকশী পর্যন্ত পদ্মায় ক্যাপিটাল ড্রেজিং। এই রুট চালু করে সারা বছর যদি পদ্মায় নাব্যতা রাখা যায় তবে উভয় দেশ লাভবান হবে। এটা সম্ভব হলে স্বল্প ব্যয়ে নদী পথেই সরাসরি রাজশাহী থেকে ঈশ্বরর্দী হয়ে ঢাকা দিয়ে আরিচা পর্যন্ত পণ্য পরিবহণের সুযোগ হবে। খুলবে পর্যটনের নতুন দুয়ার। কৃষি প্রধান রাজশাহী অঞ্চলে কৃষি যন্ত্রাংশ নির্মাণ, রপ্তানিমুখি খেলনা ও কৃষি প্রকৃয়াজত শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এই অঞ্চলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান না করা গেলে উন্নয়ন ধরে রাখা যাবে না। এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে এই নৌবন্দর।
মেয়র আরও মেয়র বলেন, ১৯৭৪ সালে ভারতের সাথে বাংলাদেশের ৭টি নৌরুট নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরাগান্ধীর সাথে সমঝোতা চুক্তি হয়। ওই ৭টি নৌরুটের মধ্যে ভারতের মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান থেকে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর এই নৌরুটটিও রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে আমদানি রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিশেষ করে ভারত থেকে আমরা প্রতি বছর কোটি টন পাথন আমদানি করে থাকি। এই পাথর দিয়ে আমরা রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, ভবণের নির্মাণ করি। আমরা ভারতের পাকুর ব্যান্ডের পাথর আমরা আমদানি করি। এই পাথর উৎপাদন অঞ্চল আমাদের রাজশাহীর বর্ডার থেকে খুব বেশি দূরে নয়। ভারতের ধুলিয়ান থেকে বিহারের পাকুর খুব বেশি দূরে নয়। এই পাথর যদি আমরা বার্জে করে নদী পথে আনতে পারি রাজশাহীতে, তবে খুব সহজে তা ঢাকা পর্যন্ত বার্জে করে পৌছে দেয়া যাবে। আপাতত গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ অংশের নদীবন্দরে শুধুমাত্র একটি কাস্টমস হাইজ নির্মাণ এবং একটি জেটি জোগাড় করা গেলেই এই বন্দরটি চালু করা সম্ভব।
গোদাগাড়ী-ধুলিয়ান নৌরুটের বিষয়ে সরকারের আগ্রহ প্রসঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এনবিআর ক্লিয়ারেন্স দিলেই রাজশাহীর গোদাগাড়ীর পদ্মা থেকে ভারতের ধুলিয়ান নৌরুট চালু চালু করতে পারবো। এনিয়ে স্থানীয় প্রশাসন আলোচনার পাশাপাশি এনবিআরকে চিছি দিয়েছে।