ভুবন সেন, খানসামা (দিনাজপুর)
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৪ ২২:৩৬ পিএম
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বী মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম টিভি ৯ বাংলা। ‘বাংলাদেশে হিন্দু পরিবারকে ধর্ম বদলের চাপ, বাধা দেওয়ার আক্রোশে হিন্দু পরিবার খুন’ শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশিত হয়।
গত ১৯ ডিসেম্বর বিকালে প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয় বাংলাদেশে হিন্দু পরিবারকে ধর্ম বদলের চাপ, বাধা দেওয়ার আক্রোশে হিন্দু পরিবারের গৃহবধূ সুজাতা রায় ও তার চার বছরের মেয়ে নীলাদ্রি রায়কে খুন করে ঝুলিয়ে রাখে কট্টরপন্থিরা।
গত শুক্রবার সকালে সরেজমিনে জেলার খানসামার ৩ নং আংগারপাড়ার আরাজী জুগীর ঘোপা গ্রামের বেণুপাড়া এলাকায় সেই বাড়িতে যায় প্রতিবেদক। সেখানে নিহতের বাবা, স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি, এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের সত্যতা মেলেনি।
প্রতিবেশীদের দাবি, ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মিথ্যা। ধর্ম বদল বিষয়ে কোনো চাপ কেউ প্রয়োগ করেনি। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা সেই বিষয়ে নিহতের শ্বশুর পরিবার ও বাবার পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে।
জানা যায়, পার্বতীপুর উপজেলার বিলাইচন্ডীর বাঘাচড়া ঝাউপাড়ার অমিত্য রায়ের মেয়ে সুজাতার সঙ্গে ২০১৮ সালে ভক্ত রায়ের বিয়ে হয়। তাদের ৪ বছর বয়সি একটি মেয়ে রয়েছে। গত বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার আংগারপাড়ার আরাজী যুগীর ঘোপা গ্রামের বেণুপাড়ায় নিহতের শয়নকক্ষ থেকে তাদের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের বাবার জিম্মায় লাশ পরদিন দাহ সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা অমিত্য রায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন।
নিহত সুজাতা রায়ের বাবা অমিত্য রায়ের দাবি, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মহত্যার কথা বলছে।
সুজাতার স্বামী ভক্ত রায় বলেন, আমার বউ কী কারণে আত্মহত্যা করল আমি বুঝতে পারছি না। এটা নিয়ে আমার-শ্বশুরের পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। এর মধ্যে ভারতীয় গণমাধ্যমে এমন মিথ্যা খবর। ধর্ম বদলের বিষয়ে কোনো চাপ কেউ প্রয়োগ করেনি। এটি মিথ্যা ও বানোয়াট।
মৃত সুজাতার শাশুড়ি তৃফুল বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সন্ধ্যাবাতি দেওয়ার জন্য সুজাতার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তার দরজা খুলে দেখি সে ও তার মেয়ে শয়নকক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ঠাকুরদাশ বলেন, ভারতীয় মিডিয়া যেটা প্রচার করছে এটা সম্পূর্ণ ভুয়া ও মিথ্যা। দেশকে অস্থিতিশীল করতেই তারা এটা করছে।
বাবুলু রায় বলেন, খানসামার আশপাশে কোনো গণ্ডগোল নাই, এখানে হিন্দু-মুসলমান সবাই ভাই-ভাই হিসেবে চলাফেরা করি।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু তালেব বাবু বলেন, এখানে ধর্ম বদলের যে চাপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এলাকায় এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
দিনাজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সদর সার্কেল শেখ মো. জিন্নাহ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে খানসামা থানার ওসিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। ভিকটিমের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোটও পেয়েছি। আশা করি দ্রুত রহস্য উন্মোচন করতে পারব।