× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নওগাঁয় প্রিপেইড মিটারে ভোগান্তির অভিযোগ স্থাপন বন্ধের দাবি

নওগাঁ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৪ ২১:১১ পিএম

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৪ ২১:১৩ পিএম

নওগাঁয় প্রিপেইড মিটারে ভোগান্তির অভিযোগ স্থাপন বন্ধের দাবি

নওগাঁয় নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ থেকে বাসাবাড়ি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করা হলে ‘ভৌতিক চার্জ’ কেটে নেওয়া হচ্ছে।

এতে বাড়তি টাকা খরচ হওয়ায় গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়ছে। এ কারণে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে শহরের মুক্তির মোড়ে বিদ্যুৎ গ্রাহক স্বার্থরক্ষা কমিটির ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উৎপল সাহার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নওগাঁর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খোকন, বিদ্যুৎ গ্রাহক স্বার্থরক্ষা কমিটির সমন্বয়ক আলীমুর রেজা রানা, শিক্ষক জাহিদ রব্বানি, সাবেক কাউন্সিলর এসএম রশিদুল আলম সাজু, বিন আলী পিন্টু, দেওয়ান কামরুল আহসান শাহীন, শহিদুল ইসলাম বাবলু, ওবাইদুর রহমান, মাহবুবুল আলম আলো প্রমুখ। কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সংস্কৃতিকর্মী এবং ভুক্তভোগী গ্রাহকসহ সুধিজনরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, নওগাঁ পৌরসভা এলাকায় এক মাস ধরে বাসাবাড়িতে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ করা হচ্ছে নেসকোর পক্ষ থেকে। এই মিটার স্থাপন করতে গিয়ে কৌশল অবলম্বন করে গ্রাহকদের বাসায় মিটারটি লাগিয়ে দিচ্ছে নেসকোর পরিচয় দেওয়া লোকজন। ফলে গ্রাহকদের সঙ্গে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে তাদের। এদিকে, মিটার লাগানোর পর বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। মিটারে টাকা রিচার্জ করা হলে ‘ভৌতিক চার্জ’ কেটে নেওয়া হচ্ছে। এ কারণে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবি জানান তারা। 

নওগাঁ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গ্রাহক মিন্টু অভিযোগ করেন, এক সপ্তাহ আগে নেসকোর পরিচয় দিয়ে লোকজন এসে প্রিপেইড মিটার লাগিয়ে দেন। ওইদিনই তারা ৫০০ টাকা রিচার্জ করেন। কিন্তু মিটারে দেখা যায় ২০ টাকা আছে। পরদিন সকালেই বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। পরে মিটারে দেখা যায় টাকা নাই। ধার করে মিটারে ৫০০ টাকা রিচার্জ করা হলে সঙ্গে সঙ্গে ১৬০ টাকা কেটে নেয়। অথচ আগে ১৫০ টাকা যোগ করা হলে আমার সারা মাসের বিল হয়ে যেত। কারণ ডিজিটাল মিটারে আমার প্রতি মাসে বাসার বিদ্যুৎ বিল আসে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। আমার কাছে প্রিপেইড মিটার সুবিধাজনক মনে হয়নি। এ ছাড়া তারা প্রিপেইড মিটার লাগিয়ে দিয়ে ডিজিটাল মিটার অফিসে জমা দিতে নিষেধ করেন, যা নিয়ে আমার সন্দেহ সৃষ্টি হয়।

বিদ্যুৎ গ্রাহক স্বার্থরক্ষা কমিটির সমন্বয়ক আলীমুর রেজা রানা বলেন, আগের স্বৈরাচারী সরকারের সময় জনগণকে উপেক্ষা করে প্রিপেইড মিটার বসানোর উদ্যোগ নেয়। মানুষের দাবি উপেক্ষা করার কারণে শেখ হাসিনাকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। তাই আমরা চাই না কেউ জনগণের দাবি উপেক্ষা করে শেখ হাসিনার মতো পরিণত ভোগ করুক। ডিজিটাল মিটারও কিন্তু আধুনিক এবং সেটা সরকারি। তাই সরকারি জিনিস বাদ দিয়ে বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে মিটার ব্যবহার করতে চাই না। কারণ বেসরকারি কোম্পানি চাইবে সাধারণ জনগণের পকেট থেকে বেশি টাকা লুট করতে। এটা হতে দেবে না নওগাঁবাসী। তিনি বলেন, প্রযুক্তির কোনো দোষ নেই। কিন্তু প্রযুক্তি যে মানুষ চালায়, তার কারণে প্রযুক্তি কলঙ্কিত হয়। বিদ্যুৎ সবার জন্য। কিন্তু এই প্রিপেইড মিটার যার টাকা আছে তার। অথচ মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই অবিলম্বে বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রিপেইড মিটার লাগানো বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের পাশাপাশি নেসকোর অফিস ঘেরাও করা হবে।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উৎপল সাহা বলেন, বাড়িতে ঢুকে জোর করে নেসকোর পরিচয়ে আসা লোকজন মিটার পরিবর্তন করছে। আবার তারা ইচ্ছামতো বিল করে পকেট কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের অফিসের ঘুষ দুর্নীতি তদন্ত করতে হবে এবং শাস্তি দিতে হবে। তারা ঠিকমতো সার্ভিস দিতে পারে না। মানুষ ওই প্রিপেইড মিটার লাগাতে চায় না। নেসকোর জুলুম শুরু হয়েছে, তা প্রতিরোধ করতে হবে। যে মিটারটি লাগানো হয়েছে ইতোমধ্যে তা পরিবর্তন করে আগেরটা লাগিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। 

তবে ভোগান্তির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) নওগাঁর বিক্রয় ও বিতরণ দক্ষিণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানজিমুল হক। তিনি বলেন, জেলায় উত্তর ও দক্ষিণ বিভাগের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। কিন্তু প্রিপেইড মিটার আসছে তারও বেশি। ইতোমধ্যে তিন ফেজের মিটার লাগানো শেষ হয়েছ। দুই ফেজের মিটার লাগানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে গ্রাহকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে সরকারের পক্ষ থেকে প্রিপেইড মিটার লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে গ্রাহকরা ভোগান্তি বা হয়রানি যেন না হয়। এখানে ব্যক্তিস্বার্থ বা অনিয়মের কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই। একসময় এই প্রিপেইড মিটার সকলের প্রয়োজন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা