চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৮:২৫ পিএম
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা।
ওষুধ কোম্পানি থেকে চিকিৎসকদের কমিশন নেওয়ার বিষয়টি ‘অনৈতিক ও অবৈধ’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের প্রধান জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। কমিশনের প্রতিবেদনে এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের বীর উত্তম শাহআলম মিলনায়তনে অংশীজনদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের প্রধান।
সভায় অংশীজনদের মধ্যে চিকিৎসক, মেডিকেল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কয়েকজন শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্যখাতের সরকারি কর্মকর্তা, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, বেসরকারি মেডিকেলের কর্মী, মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা অংশ নেন। তবে রোগী ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে কেউই ছিলেন না। ফলে সভায় শুধুমাত্র চিকিৎসক-কর্মকর্তাদের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ এবং তাদের নিয়ে নানাসময়ে ওঠা অভিযোগের জবাব নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় আলোচনা না হলেও নিজেই চিকিৎসকদের কমিশন নেওয়ার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, ‘এটা তো অনৈতিক। এটা তো থাকাই উচিত না। এটা কমিশনের রিপোর্টে উল্লেখ থাকবে।’
ডা. এ কে আজাদ খান জানান, আপাতত কমিশন অংশীজনদের মতামত শুনছে। পরবর্তী সময়ে সেবাগ্রহীতাদের মতামত নিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেবেন।
সভায় চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করে রোগীদের বিদেশযাত্রা ঠেকাতে স্বাস্থ্যশিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দেন। এক্ষেত্রে তারা স্বাস্থ্যখাতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। চিকিৎসা খাতে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর করার বিষয়টি উল্লেখ করেন চিকিৎসকেরা। এছাড়াও সভায় মানহীন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং প্রান্তিক পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের নানা সংকটের বিষয় আলোচনায় উঠে আসে।
সভায় স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সদস্য ডা. আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন, অধ্যাপক ডা. সায়েরা আক্তার, অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক, অধ্যাপক ডা. আজহারুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন ও উমাইর আফিফ উপস্থিত ছিলেন।