কেরু অ্যান্ড কোম্পানি
রেজাউল করিম লিটন, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:৩৮ পিএম
চিনিকল ইউনিটে ৬১ কোটি ৭ লাখ টাকা লোকসানের বোঝা নিয়ে ২০২৪-২৫ আখ মাড়াই মৌসুম শুরু হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় চিনিকল চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। মাড়াই মৌসুম সফল করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) চিনিকলের কেইন কেরিয়ার প্রাঙ্গণে দোয়া মোনাজাত ও আখ নিক্ষেপের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মাড়াই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান লিপিকা ভদ্র।
এ সময় জেলা ও দায়রা জজ আকবর আলি শেখ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান, চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের প্রধান রসায়নবিদ আনিসুল আযম, প্রধান প্রকৌশলী মো. শহিদুল করিম, চিনিকলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক ও কর্মচারী ফেডারেশনের নেতারাসহ আখচাষি ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
৬৫ দিনব্যাপী এবারের মাড়াই মৌসুমে প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৪ হাজার ২০০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছে শতকরা ৫ শতাংশ। প্রতিদিন গড়ে ১১৫০ টন আখ মাড়াই করবে চিনিকলটি। মিল জোনে এবার দণ্ডায়মান আখ রয়েছে ৫ হাজার ১০০ একর জমিতে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫৬ হাজার ৪১৩ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে। চিনি উৎপাদন হয় ২ হাজার ৬০৮ মেট্রিক টন।
চিনিকল শ্রমিকরা জানান, এ বছর মিলস হাউসের ফিটিংয়ের কাজ ভালো হয়েছে। মিল ভালোই চলবে। ফলে বেশি চিনি উৎপাদন সম্ভব হবে।
১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের সবচেয়ে বড় চিনিকল দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব খাতে জমা দিয়েছে সর্বোচ্চ ১৪৫ কোটি টাকা। এ বছর রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২০০ কোটি। কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ৬টি ইউনিটের মধ্যে ৫টি ইউনিট-ডিস্টিলারি, জৈব সার কারখানা, বাণিজ্যিক খামার, পরীক্ষামূলক খামার, ফার্মাসিউটিক্যাল-আয়কর বাদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১১২ কোটি ৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। কেবলমাত্র চিনিকল ৬১ কোটি ৭ লাখ টাকা লোকসানে রয়েছে।
কেরু চিনিকল আখচাষি কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো. শরীফ উদ্দীন বলেন, চিনিকল কর্তৃপক্ষের কাছে আখচাষিদের এবার দাবিÑ আখের মূল্য নগদ পরিশোধ করতে হবে। আখের দাম ন্যূনতম প্রতি মণ ৩০০ টাকা করতে হবে। চাষিদের কাছ থেকে কেটে নেওয়া টাকা আখচাষি কল্যাণ সংস্থায় জমা করতে হবে।
কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাব্বিক হাসান বলেন, ‘এ মৌসুমে চিনি কারখানায় লোকসান কমিয়ে আনতে সবাই মিলে কাজ করছে। চলতি মৌসুমে কোদাল দিয়ে আখ কাটার পদ্ধতি চালু করা হবে। এতে কয়েক হাজার টন আখ বেশি পাওয়া যাবে। চিনির উৎপাদনের পরিমাণও বাড়বে।’