পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২২ ০৭:৪৪ এএম
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২২ ২১:১৪ পিএম
ফাইল ফটো
দিনদিন তীব্র ঝুঁকিপূ্র্ণ হয়ে উঠছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের ২৬০০ ভোল্টের অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল। মাটির অগভীর থেকে ক্যাবল টানা, জনসচেতনতা সৃষ্টি না করা, ম্যানহোল ও দীর্ঘ সংযোগে সতর্কীকরণ চিহ্ন না থাকায় এ নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। আবার রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্যাবলের চিহ্নিতকরন খুঁটি উপড়ে যাওয়া, নিয়ন্ত্রণহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে শঙ্কায় রয়েছেন নেট সেবা গ্রহীতারাও।
জানা গেছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার আমখোলা পাড়ায় ৬৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ একর জমির ওপর নির্মিত হয়েছে দেশের এ দ্বিতীয় সাব মেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন। সাগরের নিচ দিয়ে ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমার হয়ে ২৫ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এর আরকুলেটেট অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল পৌঁছায় কুয়াকাটা সৈকতে। এটি দিয়েই দেশে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে।
বসতবাড়ি, পুকুর, ঘের, সড়ক-মহাসড়ক, আবাদি জমি পেড়িয়ে সাড়ে ছয় কিলোমিটার ক্যাবল লাইন নিয়ে যাওয়া হয় আমখোলা পাড়ার ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত। এরপর প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন কক্সবাজারের জিলং পর্যন্ত একে যুক্ত করতে তৈরি করা হয় একটি ব্যাকবোন। কিন্তু দীর্ঘ এ সংযোগ ক্যাবল স্থাপনের পর দেওয়া হয়নি সতর্কীকরণ চিহ্ন। সৃষ্টি করা হয়নি জনসচেতনতা। চিহ্নিতকরণ যে খুঁটি রয়েছে তাও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উপড়ে পড়েছে।
সম্প্রতি উপজেলার আলীপুরে স্কাভেটর দিয়ে নিজেদের জমির মাটি কাটার সময় অপটিক্যাল ক্যাবল কেটে যায়। এ ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ভীতির। মাটির অগভীর থেকে সংযোগ টানায় কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্টে বালুর নিচ থেকে বেড়িয়ে পড়েছে এসব ক্যাবল।
কুয়াকাটা, আলীপুর, মহিপুরসহ ল্যান্ডিং স্টেশনের টানা লাইন এলাকার বাসিন্দা রহিম খান, জাহিদুর রহমান, জাহাঙ্গির সুসুল্লী জানান, সংশ্লিষ্ট গ্রামের মানুষ অসচেতনতার কারণে ঝুঁকিতে আছে। তারা খাল, বিল, নালা ও চাষী জমি খনন করতে গিয়ে সংযোগ তার কেটে যাওয়ার শঙ্কায় আতঙ্কে ভুগছেন।
লতাচাপলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনসার মোল্লা জানান, চিহ্নিতকরণ সংকেত না থাকায় পারিবারিক কাজে এমনকি জমি চাষাবাদ করতে গিয়ে সারমেরিন কেবল তার কাটা পড়ছে অজান্তে। এতে করে বিভিন্ন মামলাসহ গ্রেপ্তারের শঙ্কায় থাকতে হচ্ছে সাধারণ গ্রামবাসীকে।
কুয়াকাটা সাব-মেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে স্থানীয়দের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে প্রতি একশ’ মিটার অন্তর রাতে দৃশ্যমান হয় (রেডিয়াম) এমন সাইনবোর্ড স্থাপনসহ প্রচারের মাধ্যমে জনসচেনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা এড়াতে এবং ইন্টারনেট জগতে বড় ধরণের বিপর্যয় রোধে জনসচেতনা বৃদ্ধিসহ ক্যাবলের নিরাপত্তায় উদ্যোগ নেবে কর্তৃপক্ষ এমন আশাবাদ নেট ব্যবহারকারীদের।