চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৯:১২ পিএম
আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৯:১৪ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় দ্বন্দ্বের জেরে ছুরিকাঘাতে দুই কিশোরকে খুন করা হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও চারজন। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ দুইজনকে আটকের কথা জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার মল্লিকপুরে বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
খুন হওয়া দুইজন হলেন নাচোল উপজেলার খলসি গ্রামের এজাবুল হকের ছেলে মাসুদ এবং চাঁদপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া রায়হান।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা পুলিশ জানায়, প্রায় ১৫ দিন আগে একটি পেয়ারা বাগানে ফ্রুটব্যাগিংয়ের কাজ করছিলেন সালাম ও শাহিন। এ সময় শাহিন গোপনে সালামের একটি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। এরই জেরে তাদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হলে স্থানীয়ভাবে তা মীমাংসাও হয়। তারপরও ১৬ ডিসেম্বর রাতে বিজয় দিবসের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ায় উভয় পক্ষ। এ সময় সালাম গ্রুপের লোকজন শাহিনের পক্ষের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ছুরিকাঘাতে মাসুদ ও রায়হান নিহত হন। আহত হন আরও চারজন। আহতরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘মঙ্গলবার মল্লিকপুর হাটে স্থানীয় বিএনপি নেতার আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই গ্রুপ দ্বন্দ্বে জড়ায়। একপর্যায়ে ছুরি ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো শুরু করে এক গ্রুপ। এতে ছুরিকাঘাতে মাসুদ ও রায়হান আলী নিহত হয়।’
নিহত রায়হানের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বাড়ির পাশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে খুন হয় রায়হান। হত্যায় জড়িতদের বিচার চাই।’
ছুরিকাঘাতে আহত আরমান আলী বলেন, ‘আমি ট্রাকের একজন হেলপার। অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ করেই হামলার ঘটনা ঘটে। কারা কী কারণে হামলা চালাল, তা নিশ্চিত হতে পারিনি।’
হতাহতদের প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ফাহাদ আকিদ রেহমান বলেন, নিহত ও আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের চিহ্ন রয়েছে। দুইজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। আহত তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম সাহিদ বলেন, এ ঘটনায় আজিজুল ও তাসিম নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক কারণে নয়: পুলিশ
এ হত্যাকাণ্ড ‘রাজনৈতিক’ বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হলেও, এটিকে প্রোপাগান্ডা হিসেবে দাবি করছে পুলিশ। বরং দুই পক্ষের বিরোধ থেকেই এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) আবুল কালাম সাহিদ।
আজ বুধবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘সালাম ও শাহীনের মধ্যে পেয়ারা বাগান নিয়ে বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জেরেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে মাসুদ ও রায়হান মারা গেছেন।’
নিহতদের ছাত্রলীগের নেতা দাবি করে গতকাল রাতেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দাবি করা হয়, দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখার কারণে তাদের হত্যা করা হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ফটোকার্ড ও ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে আবুল কালাম সাহিদ বলেন, ‘নিহতদের রাজনৈতিক কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি জয় বাংলা লেখার জন্য তাদের হত্যা করা হয়েছে এমন তথ্যও পায়নি পুলিশ। এ নিয়ে যারা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’