মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫:০১ পিএম
আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫:৪৫ পিএম
প্রতীকী ছবি
‘আমার অত চাওয়া-পাওয়া নাই। মিঠাপুকুরে এমনও লোক আছে দিনে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা ইনকাম করে। আমি তো তার কাছে চেয়ে টাকা নিইনি। ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পর অই মহিলা খুশি হয়ে দুই দফায় ২০ হাজার টাকা চা খাওয়ার জন্য দিছলো। আমি কাজ করে দিই, এজন্যই অনেকে খুশি হয়ে এক-দুই হাজার টাকা চা খাওয়ার জন্য এমনি দেয়।’ এভাবেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেওয়ার নামে ঘুষগ্রহণের কথা অকপটে স্বীকার করেন মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের অফিস সহকারী রায়হান মিয়া।
জানা গেছে, উপজেলার বাতাসন লতিবপুর গ্রামের মৃত রজব উদ্দিনের স্ত্রী কহিনুর বেগম ও তার ছেলের স্ত্রী বানেছা বেগম গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ চেয়ে ২০২৩ সালের গত ১০ আগস্ট ইউএনওর কার্যালয় বরাবর দুটি আবেদন করেন। অফিস সহকারী রায়হান আবেদন কপি থেকে কহিনুরের নম্বর নিয়ে খরচের কথা বলে দুই দফায় ৫ হাজার টাকা নেন। এরপর কহিনুর ও বানেছা বেগম ঘর বরাদ্দ পেয়েছেÑ এ কথা জানিয়ে দুই দফায় নেন আরও ২০ হাজার টাকা।
অভিযুক্ত রায়হান মিয়া বলেন, আমি ২৫ হাজার টাকা নিইনি। ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পর নারী খুশি হয়ে ২০ হাজার টাকা দেন চা খাওয়ার জন্য
পরে উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের ভক্তিপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ পায় কহিনুর। কিন্তু ঘরে ওঠার আগেই প্রকল্পের আশপাশের স্থানীয়রা দখল করে নেয়। একদিকে সুদ কারবারির কাছ থেকে নেওয়া টাকার সুদের চাপ, অন্যদিকে বরাদ্দ পাওয়া ঘরে উঠতে না পারায় টাকা ফেরত পেতে চাপ দেন কহিনুর। পরে স্থানীয় এক নেতার মধ্যস্থতায় ১৩ হাজার টাকা ফেরত পেলেও বাকি ১২ হাজারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বিধবা এই নারী।
ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার মেহফুজ আল রেজা জানান, এসি ল্যান্ড স্যারের নির্দেশে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বৃদ্ধা কহিনুরকে ঘরে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে বসবাসকারীরা ঘর তালাবদ্ধ করে চলে যাওয়ায় সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত রায়হান মিয়া বলেন, আমি ২৫ হাজার টাকা নিইনি। ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পর ওই নারী খুশি হয়ে ২০ হাজার দেন চা খাওয়ার জন্য। চেয়ারম্যান-মেম্বারেরা তো একটা করি ঘরের জন্য ৩০-৪০ হাজার করি নিছে। অই মহিলা ঘরে উঠতে না পারায় স্থানীয় এক নেতার মধ্যস্থতায় ১৩ হাজার ফেরত দিয়েছি। তার সঙ্গে আমার আর কোনো ঝামেলা নাই।
ইউএনও বিকাশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় ১২ শতাধিক ভূমিহীনকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও ৩৪০ জনকে বরাদ্দের কাজ চলমান রয়েছে। ঘর বরাদ্দ দেওয়ার নামে ঘুষ গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।