× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জলাধার খনন, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি

কৃষ্ণ ব্যানার্জী, সাতক্ষীরা

প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৪:১০ পিএম

সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ সেমিনারের আয়োজন করে। প্রবা ফটো

সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ সেমিনারের আয়োজন করে। প্রবা ফটো

প্রতিটি গ্রামে বড় বড় পুকুর বা জলাধার খনন, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। বন্যার পানি প্রবেশ রোধে পুকুর বা জলাধারের পাড় প্রয়োজনীয় উচ্চতা ও প্রস্থ বিশিষ্ট হতে হবে। এসব কাজে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিয়ে স্থানীয় সরকারের নেতৃত্বে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে যুক্ত করতে হবে। পুকুর ভরাট নয়, আরও পুকুর খননে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে উৎসাহিত করতে হবে। অপরিকল্পিত লবণ পানির চিংড়ি চাষ বন্ধ করে নীতিমালা অনুযায়ী চিংড়ি চাষে বাধ্য করতে হবে। 

সাতক্ষীরা উপকূলে সুপেয় পানি সংকটবিষয়ক গবেষণাপত্র উপস্থাপন ও সমাধানে করণীয় বিষয়ক সেমিনারে এসব সুপারিশ করেছেন বক্তারা। গতকাল মঙ্গলবার সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন সাংবাদিক ও গবেষক তানজির কচি এবং সুলতান শাহাজান। এতে আরও সুপারিশ করা হয়, ঘেরগুলোতে অবশ্যই কার্যকর আউট ড্রেন রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে। যাতে ঘেরের পানি পাশের পুকুর বা কৃষিজমিতে চুইয়ে যেতে না পারে। বিদ্যমান পুকুর, খাল বা জলাধারগুলোর ইজারা বাতিল করে প্রকৃত রূপে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। এসব খালে লবণ পানি তোলা যাবে না। খালগুলোতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে কৃষিসহ নানামুখী ব্যবহারে উন্মুক্ত করতে হবে। উপকূল রক্ষা বাঁধ টেকসই ও মজবুত করতে হবে। সুপেয় পানির সংকট নিরসনে বরাদ্দকৃত অর্থের সিংহভাগ পুকুর বা জলাধার খনন, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করতে হবে। 

গবেষণাপত্রে বলা হয়, ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত হওয়ার কারণে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বরাবরই সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। জনবসতি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত শ্যামনগর অঞ্চলের মানুষের জীবনধারণের প্রধান উৎস পুকুর বা দীঘি। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এ অঞ্চলে প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততার আওতা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিতভাবে লোনা পানির চিংড়ি চাষের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ, পুকুর ও দীঘিগুলো সংস্কার না করা, প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পুকুর ও দীঘি খনন না করাসহ নানা কারণে শ্যামনগর অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট প্রকট হয়েছে। এই সংকট দূরীকরণে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা উদ্যোগ গৃহীত ও বাস্তবায়ন হয়েছে। কিন্তু সুপেয় পানির সংকটের টেকসই কোনো সমাধান হয়নি। বরং এসব উদ্যোগ ঘিরে নতুন নতুন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পুকুর বা দীঘি সুপেয় পানির মূল উৎস হলেও তা রক্ষণাবেক্ষণ বা জনসাধারণের ব্যবহারে যথেষ্ট প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সরকারি জলমহালগুলো প্রভাবশালীরা দখলে রেখেছে। 

বলা হয়, সুপেয় পানি সংকট নিরসনে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পিএসএফ স্থাপন বা সংস্কার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ট্যাংক বিতরণ, রিভার্স অসমোসিস প্লান্ট স্থাপন ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু নানা কারণে আধুনিক প্রযুক্তি সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সফলভাবে ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে উল্লেখ করা হয়। 

এতে আরও বলা হয়, একই সঙ্গে স্বাদু বা মিষ্টি পানির উৎস কমে যাওয়ায় শ্যামনগর অঞ্চলের কৃষিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। লবণাক্ততার প্রভাবে কৃষিজমি কমে লোনা পানির ঘেরে রূপান্তরিত হচ্ছে। ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। কৃষকের খরচ বাড়ছে। দিন দিন কৃষিবিমুখ হয়ে পড়ছে মানুষ। হারাচ্ছে পেশা। বর্ষা মৌসুম ছাড়া অন্যান্য মৌসুমে চাষাবাদ হচ্ছে না। এতে আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে। উদ্ভিদ ও প্রাণবৈচিত্র্য বিলুপ্ত হচ্ছে। বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে। ফলদ বৃক্ষ ও গবাদিপশু কমে যাচ্ছে। প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পশুপাখি ও শামুক, কেঁচো, জোঁক, ব্যাঙ। গাছপালা জন্মাতে অসুবিধা হচ্ছে। স্বাদু পানির কচ্ছপ পাওয়া যাচ্ছে না। জ্বালানি সংকট ও উষ্ণতা বাড়ছে। এক কথায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। 

উদ্ভিদ-খাদ্যবৈচিত্র্য কমে যাওয়ায় শ্যামনগর অঞ্চলে অপুষ্টি বেড়েছে। কর্মসংস্থান কমে গেছে। মানুষ পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছে। বেড়েছে পানিবাহিত চর্মরোগ, রাতকানা, অন্ধত্ব, ডায়ারিয়া, আমাশয়। নারীদের ঋতুকালীন সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। এক কথায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে চিকিৎসা খরচও। 

সুপেয় পানির সংকট নিরসনে শ্যামনগরের মানুষের শেষ ভরসা পুকুর। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীভাঙন ছাড়াও অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ ও মাছের ঘেরগুলোর আউট ড্রেন না থাকায় ঘেরের লোনা পানি চুইয়ে চুইয়ে মিষ্টি পানির পুকুরগুলো লবণাক্ত করে তুলছে। অনেক পুকুর দীর্ঘদিন সংস্কার করা হয় না। অনেক ভরাট হওয়ার উপক্রম, কিছু কিছু মজে গেছে। অনেক পুকুরের পানি এখন আর খাওয়া যায় না। অনেকগুলোই প্রভাবশালীরা দখল করে মাছ চাষ করছে। এসব পিএসএফ বা পুকুরগুলো রক্ষণাবেক্ষণের কমিটিগুলো সক্রিয় থাকায় তদারকির অভাব রয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা