চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২২ ২০:২৫ পিএম
আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২ ২১:৪৩ পিএম
চট্টগ্রাম বন্দর। ফাইল ছবি
ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর চট্টগ্রামের ১৭ নৌঘাটে লাইটার জাহাজে পণ্য পরিবহন ফের শুরু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টা থেকে নৌযান শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন লাইটার জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি নবী আলম।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘মালিকপক্ষের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ। এরপরই আমাদের সহকর্মীরা কাজে ফিরেছেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে চট্টগ্রামের সবগুলো নৌঘাটে পণ্য ওঠা-নামা শুরু হয়েছে। বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা বড় জাহাজগুলো থেকেও পণ্য খালাস শুরু হয়েছে।’
এর আগে ১০ দফা দাবিতে শনিবার দিবাগত রাত ১২ থেকে কর্মরিবতি শুরু করে সারা দেশের নৌযান শ্রমিকরা। তাদের কর্মবিরতির কারণে দুই দিন ধরে সব ধরনের লাইটার জাহাজে পণ্য পরিবহন বন্ধ ছিল। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ২২টি বড় জাহাজে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে যায়। দেশের ৪১টি নৌঘাটে ৭১৫টি লাইটার জাহাজের পণ্য খালাস বাধাগ্রস্ত হয়। এরপর সোমবার (২৮ নভেম্বর) বিকালে শ্রমিকদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে শ্রমিকরা। এরপর সন্ধ্যা ৬টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস ফের শুরু হয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ধর্মঘট প্রত্যাহারের পরপরই শ্রমিকরা জাহাজে উঠেছেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস শুরু হয়েছে।’
নৌ-শ্রমিকদের অন্যতম দাবি হলো তাদের বেতন-ভাতা ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা করতে হবে। কর্মস্থলে মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ করা, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র প্রদান, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন, ভারতগামী জাহাজ শ্রমিকদের সেদেশের ল্যান্ডিং পাস সরবরাহ করা, ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্প বাতিল, লাইটার জাহাজকে ডব্লিউটিসির সিরিয়াল অনুযায়ী পণ্য পরিবহনে বাধ্য করা, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে যাতায়াতে তৈরি করা চড়পাড়া ঘাটের ইজারা বাতিল করা। এছাড়া নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ডাকাতি বন্ধ করা।