বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬:৫৭ পিএম
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬:৫৯ পিএম
টানা তিন দিনের শৈত্যপ্রবাহে ঝেঁকে বসেছে শীত। দিনের বেশিরভাগ সময় দেখা নেই সূর্যের। শীতের তীব্রতা বাড়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে জমে উঠেছে বিভিন্ন হাটে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের শীতের গরম কাপড়ের কেনাবেচা। শীতে কাপড়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় নতুন-পুরাতন শীতের কাপড়ের পরসা সাজিয়ে বসেছেন বাঞ্ছারামপুরের সাপ্তাহিক হাট মাওলাগঞ্জ বাজারে দোকানিরা। এসব দোকানগুলোতে ক্রেতাদের সাধ্য অনুযায়ী কাপড় বিক্রি হয় বলে ভিড় জমাচ্ছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মধ্য ও নিম্নআয়ের মানুষরা।
সাপ্তাহিক হাট বাঞ্ছাপুরের মাওলাগঞ্জ বাজারের সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সপ্তাহের রবিবার খোলা আকাশের নিচে বসেছে এই হাট। হাটের গরম কাপড়ই এখন স্থানীয় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ভরসা। শীতের কারণে বেচাকেনা জমে উঠেছে পুরাতন কাপড়ের এই হাটটি। হাটে পুরাতন বিদেশি জ্যাকেট, হুডি, সোয়েটার ছাড়াও গেঞ্জি, প্যান্ট ও নতুন সব ধরণের শীতের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।
শীতের কাপড় কিনতে আসা সিএনজিচালক জালাল উদ্দিন জানান, শীত বেড়েছে তাই ছেলেকে নিয়ে শীতের কাপড় কিনতে এসেছি। মার্কেটে গিয়ে দামের জন্য কিনতে পারি না। এখানে কম দামে মোটামুটি ভালো পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। ছেলের জন্য একটা জ্যাকেট কিনলাম ১৫০ টাকা দিয়ে। দাম কম হওয়ায় ছেলের মার জন্যও একটা সোয়েটার নিলাম। আমরা দিন আনি দিন খাই। এই কাপড়ই আমাদের ভরসা।
কমলপুর থেকে বাজারে আসা রুমিন বেগম বলেন, আমার বাচ্চার বয়স দেড় বছর। শীত পড়া শুরু করেছে। ছোট বাচ্চার জন্য গেঞ্জি ও প্যান্ট কিনতে এসেছি। এখানে যা কিনেছি ২৫০ টাকায়। এগুলো মার্কেট থেকে কিনতে গেলে ৫০০ টাকার ওপরে লাগত। সাশ্রয়ের জন্য এখান থেকে কিনলাম। আমার মতো অনেকেই এখান থেকে শীতের কাপড় কিনছেন।
ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, তিন দিনের শৈতপ্রবাহে বাঞ্ছারামপুরে শীত বেড়েছে। হাটেও কাস্টমারদের উপচেপড়া ভিড়। বিক্রি মোটামোটি ভালোই হয়। গতবারের তুলনায় দোকান প্রায় দুইগুণ বেড়েছে। তারপরও বেচাকেনা ভালো।
ব্যবসায়ী মো. উজ্জ্বল আহমেদ বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে এই হাটে শীতের নতুন ও পুরাতন কাপড় বিক্রি করি। গত বছরের তুলনায় এবার অনেক দোকান বেড়েছে। পুরাতন গরম কাপড়ের চাহিদা ভালো। বিক্রিও ভালো হচ্ছে।
আব্দুল বাছেদ বলেন, ভালো পণ্য বেশি দামে কিনে আনছি। কাস্টমার মালের দাম অনেক কম বলে। তিন চার বছর ধরে এই হাটে পুরাতন কাপড় বিক্রি করি। আগের বছরের থেকে বেচাকেনা কম। তবে ধীরে ধীরে ক্রেতা বাড়ছে।