শফিক সরকার, ময়মনসিংহ
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:০২ এএম
ময়মনসিংহ নগরীর নতুন বাজার রেলক্রসিং সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ না করেই লাপাত্তা ঠিকাদার। প্রবা ফটো
ময়মনসিংহ নগরীর নতুন বাজার রেলক্রসিং সড়কের ৩৭৫ মিটার সড়ক এখন নগরবাসীর বিষফোড়া। কাজ ফেলে ঠিকাদারের লাপাত্তা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। ৬ মাস ধরে ফেলে রাখা হয়েছে সড়ক সংস্কারের কাজ। সড়কে ফেলা রাখা সুরকির লাল ধোঁয়া আর ম্যানহোলের ঢাকনার বিড়ম্বনায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। অথচ ফেলে রাখা এই অংশ নগরের প্রাণকেন্দ্র। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের বারবার তাগিদের পরও সংস্কার করা হয়নি সড়কের এই অংশ। নগরবাসীর কষ্ট আর ঠিকাদারের খোঁজ না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে সিটি করপোরেশন।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে ৩৩টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সড়ক সংস্কার, কালভার্ট নির্মাণে ২১টি প্যাকেজ করা হয়। প্যাকেজগুলো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা। কাজগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ফরিদপুরের জান্নাত কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ পূরণে চুক্তিবদ্ধ হয় ২০২২ সালের মার্চ মাসে। প্যাকেজে কাজ শেষ করাার কথা ছিল এ বছর ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খোঁজ পায়নি সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। এর আগে ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের প্যাকেজে ছিল নগরীর প্রাণকেন্দ্র নতুন বাজার ট্রাফিক মোড় থেকে রেলক্রসিংয়ের ৩৭৫ মিটার সড়ক সংস্কারের। কিন্তু এই অংশ কাজ না করে প্রায় ৬ মাস ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের কিছুদিন পর অনেক চেষ্টা করে এই প্রতিষ্ঠানকে পেয়েছিল সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা শুরুও করেছিল। কিন্তু বাধার মুখে এই প্রতিষ্ঠান আবার লাপাত্তা হয়ে যায়। ফলে নতুন বাজার সড়কসহ অন্যান্য কাজ শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।
এদিকে নতুন বাজার ট্রাফিক মোড় থেকে রেলক্রসিং পর্যন্ত সড়কও বেহাল। একদিকে ইটের বড় বড় সুরকি ফেলে রাখা হয়েছে। আর অন্যদিকে ম্যানহোলের ঢাকনায় চলাচলে বাধা পড়ছে যানবাহন। লাল ধোঁয়ায় চোখ ঝাপসা পড়ছে পথচারীদের। অথচ এটি একটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়ক দিয়ে বেশিরভাগ রোগী, শিক্ষার্থীসহ সব বয়সি মানুষ চলাচল করে থাকে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারীরা।
জাহানারা বেগম নামে একজন জানান, এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের অনেক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। ইটের সুরকিতে রিকশার ঝাঁকুনিতে তাদের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া ইটের লাল ধোঁয়ায় চোখ লালচে যাচ্ছে। অথচ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন তাদের চলাচল করতে হয়। প্রায় ছয় মাস ধরে সড়কের বেহাল অবস্থা। আর অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে দেখার যেন কেউ নেই।
এই সড়কের পাশের ব্যবসায়ীরা বলেন, সড়কে ফেলে রাখা ইটের সুরকির ধুলায় তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা এই সড়কের দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, গত কিছুদিন আগে ঠিকাদার কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের বাধার কারণে কাজ শেষ না করেই ময়মনসিংহ ছেড়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তারা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দাবিসহ সড়ক সংস্কারের দাবি করেছেন।
বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফরিদপুর জান্নাত কনস্ট্রাকশনের মালিক সজিব খানের মোবাইল ফোনে বারবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। সিটি করপোরেশেন অঞ্চল-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আজহারুল বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠনটি পুরো প্যাকেজের ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাদের আর পাওয়া যায়নি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর সম্প্রতি আবার কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু দুই দিন কাজ করার পর কেন আবার কাজ ফেলে চলে গেল, বিষয়টি জানা নেই।
নগরবাসীর চলাচলের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিঞা বলেন, ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে না পাওয়ায় তাদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। ওই প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে বিকল্প হিসেবে অন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হবে।