শেখ জহুরুল হক, তালা (সাতক্ষীরা)
প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬:৩২ পিএম
সাতক্ষীরার তালা থেকে খুলনার পাইকগাছা হয়ে কয়রা উপজেলা পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের কাজ নির্ধারিত সময়ের এক বছর পর অর্ধেকও শেষ হয়নি। বুধবার তালা-কয়রা সড়কের তালা উপজেলা সদরের মোবারকপুর এলাকা থেকে তোলা। প্রবা ফটো
সাতক্ষীরার তালা থেকে খুলনার পাইকগাছা হয়ে কয়রা উপজেলা পর্যন্ত যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ৬০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সড়ক প্রশস্ত ও বাঁকা সড়ক সোজা করার কাজে চরম ধীরগতি চলছে। এতে জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। ৫৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়নের কাজটি তিনবার সময় বাড়ালেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনও শেষ করতে পারেনি। সবশেষ সময় অনুযায়ী চলতি ডিসেম্বর মাসে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। অথচ এখনও অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি।
খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি তালা-কয়রা ভায়া পাইকগাছা সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাস হয়। দরপত্র শেষে কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ। ২৯ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৩৯ কোটি ৫৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ করার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে নানা জটিলতার কারণে তিন দফা এক বছর করে সময় বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর করা হয়। প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো হয় ৪০ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রকল্পের মধ্য থেকে তিন কিলোমিটার অংশের জন্য আলাদা করে ব্যয় বাড়ানো হয় আরও ৫৫ কোটি টাকা। সবশেষ তালা থেকে পাইকগাছা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ছয় ফুট প্রশস্ত করার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় আরও ১০০ কোটি টাকা। এভাবে প্রকল্পের ব্যয় ১৯৫ কোটি বেড়ে ৫৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা করা হয়।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নজিরবিহীন ধীরগতিতে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। বাঁক সোজা করার কাজ ৮০ ভাগ শেষ হলেও সড়ক প্রশস্ত করার কাজ হয়েছে মাত্র ৪০ ভাগ। অনেক জায়গায় ১০ ভাগও কাজ হয়নি। তবে এসব কাজ করার কারণে পথচারীসহ যান চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কয়েকজন পথচারী জানায়, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়া ও একাধিকবার সময় পেছানোর ফলে বিড়ম্বনা বেড়েছে। ধুলাবালিতে সাধারণ মানুষ চরম নাজেহাল হচ্ছে। যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলে চরম সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতালে যেতে রোগীদের কঠিন ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে। তালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন বলেন, কাজে ধীরগতির অভিযোগ আছে। আমি বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে তারা সন্দেহ পোষণ করলেও আশাবাদী সড়কের কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সোজা করা। এতে ১১ দশমিক ২৪ হেক্টর জমি অধিগ্রহণে ৭১ কোটি ৮২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে, যার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, প্রকল্পটি চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হবে। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে তিনবার সময় বাড়াতে হয়েছে। এখন দ্রুতগতিতে বাঁক সোজা করার কাজ চলছে। এ ছাড়া সড়ক প্রশস্ত করার কাজ হচ্ছে। আমরা ঠিকাদারকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছি।