মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ২১:৩৩ পিএম
আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ০০:০০ এএম
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. জমশেদ বাদী আলী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিললেও মামলা নিতে দুইদিন সময় নিয়েছেন মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক। এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি মীমাংসার জন্য সময় নেওয়ায় এই মামলাটি আপাতত রেকর্ড করা হচ্ছে না।
১০ ডিসেম্বর রাতের দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের আজিতপাড়া গ্রামে জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১টার সময় মাহাবুল ইসলাম, মো. এনামুল হক, মো. নূর আমিন, মো. বাবু মিয়া, মোছা. অরেচা বেগম, মোছা. তানিয়া বেগম এবং মোছা. আশা মনির নেতৃত্বে লাঠি, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে মো. জমশেদ আলী, আবু সাইদ, মো. জাহিদ মিয়া, মোতালেব, কুলসুমাসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে জমশেদ আলী বলেন, ‘আমার ফুফু ওয়ারেছা পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি বিক্রি করার পর মানবিক দিক বিবেচনায় আব্বু তাকে নিজের জমিতে থাকার জায়গা দিয়েছিল। এখন ফুফু আর তার ছেলেমেয়েরা আমাদের জমিজমা দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ২/৩ মাস আগে কবরস্থানে লাগানো গাছ ভাংচুর করেছিল তার বসতভিটায় ছায়া হয় এই অজুহাত তুলে। এখন আবার ছোরা দিয়ে কুপিয়ে ও রড দিয়ে হাড় ভেঙ্গে আমাদের সবাইকে আহত করার পরেও তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াইতেছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
তিনি বলেন, ‘ওসি এক জাতীয় পার্টির নেতার কথা শুনিয়া মামলা রেকর্ড করতেছে না। সে জাতীয় পার্টির নেতা আমার কাছে টাকা চাইছে। কইছে টাকা হইলে মামলা রেকর্ড হইবে। আসামিও ধরা হইবে। আমি ন্যায় বিচার চাই।’
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির ওই নেতা বলেন, আমি কোনোভাবেই তার কাছ থেকে টাকা চাইনি। মামলা রেকর্ড ও আসামি ধরা তো পুলিশের কাজ। এটা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।
এ বিষয়ে কথা বলতে বিবাদী মাহাবুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ডিসেম্বর মিঠাপুকুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুরুল অভিযোগটি তদন্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার তদন্ত করে সত্যটা নিশ্চিত হয়েছি। বাদী বিবাদী দুইজনেই রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয় হওয়ায় ওসি স্যার দুইদিন সময় দিয়েছেন মীমাংসার জন্য। অন্যথায় মামলা হবে। বাদী জমশেদ আলীর পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন ও বিবাদীপক্ষের একজন আহত হওয়ায় বিবাদীপক্ষও পাল্টা একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন থানায়। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক মুঠোফোনে বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মামলা নেওয়ার মতো বিষয় হলে অবশ্যই মামলা নেওয়া হবে। দুইদিন সময় নিয়েছি। এটা যদি তারা না মানে তাহলে কোর্টে গিয়ে মামলা করুক।’