চুয়াডাঙ্গা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:০৬ পিএম
আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:০৭ পিএম
চুয়াডাঙ্গায় মায়ের মৃত্যুতে পরিবারের আবেদনে চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে কারাগার থেকে মুক্তি পান নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতা। তবে তাকে মায়ের লাশ বহন, জানাজা ও দাফনকাজে অংশ নিতে হয় হাতকড়া নিয়েই। এর ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে চলছে সমালোচনা।
ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি বলে জানা গেছে।
জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে আবুল হোসেন কেদারগঞ্জ গ্রামের মৃত কবির হোসেনের ছেলে। গত মঙ্গলবার সকালে জাহাঙ্গীরের মা আলেয়া খাতুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে জাহাঙ্গীরের মা আলেয়া খাতুন মারা যান। পরিবারের পক্ষ থেকে মায়ের দাফন-কাফনে অংশ নিতে জাহাঙ্গীরের প্যারোলে মুক্তি চেয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন কুমার রাজবংশী গতকাল দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চার ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেন।
ছাত্রলীগ নেতার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ডিউটি অফিসার এসআই মিজানুর রহমান বলেন, মায়ের দাফনে অংশ নেওয়ার জন্য পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মঙ্গলবার বেলা ১টা থেকে বেলা ৫টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা সময়ের জন্য জাহাঙ্গীরকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পুলিশি প্রহরায় প্রথমে নিজের বাড়িতে যান জাহাঙ্গীর। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, তিনি হাতকড়া পরেই মায়ের লাশের খাটিয়া বহন করেন এবং জানাজা ও দাফনকাজে অংশ নেন।
এর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনা চলছে।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে হাতকড়া এবং দড়ি বাঁধা অবস্থায় পুলিশের গাড়ি থেকে জাহাঙ্গীর নামছেন। জাহাঙ্গীর শোকে স্বজনদের বুকে আছড়ে পড়ছেন তখনো হাতে হাতকড়া। হাতকড়া হাতে নিয়েই সেরেছেন ওজু। পরে যখন কাঁধে মায়ের লাশের খাটিয়া নিয়ে যাচ্ছিলেন জাহাঙ্গীর, তখনও তার হাতে ঝুলছিল হাতকড়া।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, গত ৫ অগাস্ট সংঘটিত একটি ঘটনা নিয়ে করা বিস্ফোরক ও নাশকতা মামলায় জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ নভেম্বর থেকে তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে আটক।
ওসি বলেন, ‘পুলিশ লাইনের একটি টিম তাকে (জাহাঙ্গীর) প্যারোলে বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে প্রকৃত অর্থে কী হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছি।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেলার ফখরুজ্জামান বলেন, গতকাল প্যারোলে মুক্তির আদেশে হাজতি আসামি জাহাঙ্গীর হোসেনকে কয়েক ঘণ্টার জন্য তার মায়ের দাফন কাজে শরীক হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আসামি তো একেবারে ছাড়া থাকবে না।’