বরিশাল সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২২ ১৮:০১ পিএম
আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২ ১৮:১১ পিএম
মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি : প্রবা
বরিশালে
বন্ধুর হবু স্ত্রীকে বাসায় ডেকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের দৃশ্য
মুঠোফোনে ধারণের অভিযোগে মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক ও এক কলেজে ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার
(২৮ নভেম্বর) বিকালে
আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষণের অভিযোগ তোলা
মাদ্রাসাছাত্রীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ওয়ানস্টাপ ক্রাইসি সেন্টারে (ওসিসিতে) পাঠানো হয়েছে।
এর আগে রবিবার (২৭ নভেম্বর) রাতে ওই মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ ও ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও করার অভিযোগ এনে বরিশালের বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার জাকির হোসেন ভূঁইয়া।
গ্রেপ্তাররা হলেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার গাঙ্গুলি বাড়ি মোড় এলাকার বায়তুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম আবু সাইম হাওলাদার, বরিশাল নগরীর রূপাতলী উকিল বাড়ি সড়কের জামিয়া কাসিমিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আবিদ হাসান ওরফে রাজু এবং সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ছাত্র হৃদয় ফকির।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এয়ারপোর্ট থানা এলাকার একটি মাদ্রাসা থেকে সদ্যসমাপ্ত দাখিল পরীক্ষা দেয় ওই ছাত্রী। তার সঙ্গে একই এলাকার এক ছেলের প্রেমের সর্ম্পক ও পারিবারিকভাবে বিয়ের কথা ঠিক হয়। বিষয়টি ছাত্রীর হবু বরের বন্ধু আবিদ হাসান, সাইম এবং হৃদয় ফকির জানতে পারে। চলতি বছরের ২০ আগস্ট রাতে হৃদয় ফকির ওই ছাত্রীর মোবাইলে কল করে জানায়, তার সঙ্গে যার বিয়ের কথা ঠিক হয়েছে সে অন্য নারীদের সঙ্গে মেলামেশা করে।
এতে আরও
বলা হয়েছে, প্রথমে
বিশ্বাস না করলেও আরও দুই বন্ধু একই কথা বলায় ওই ছাত্রী বিষয়টি বিশ্বাস করে। এরপরে ২৭ আগস্ট নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের শের-ই-বাংলা সড়ক
হামিদ লেনের হৃদয় ফকিরের ভাড়া বাসায় তার হবু স্বামী অন্য মেয়ে নিয়ে যাবে-এমন কথা বলে অভিযুক্তরা। তারা
ছাত্রীকে তার হবু স্বামীকে হাতেনাতে
ধরতে ওই বাসায় আসতে বলে। তাদের কথামতো ওই ছাত্রী সকাল ১০টার দিকে সেখানে যায়। এ সময় তাকে আটকে রেখে হবু স্বামীর ওই তিন বন্ধু ধর্ষণ করে এবং সেই দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করে রাখে।
মামলার এজাহারে
আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে ভিডিও
প্রকাশ করার কথা বলে ছাত্রীকে জিম্মি করে ওই বাসায় নিয়ে একাধিকবার দল বেঁধে ধর্ষণ করে। পরে ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করে তারা। টাকা দিতে অপরাগতা জানালে গ্রেপ্তারদের একজন ধর্ষণের ভিডিও হবু বরের বাবাকে দেখায়। এরপরই বিষয়টি জানাজানি হলে হবু বরের সহায়তায় রবিবার রাতে থানায় মামলা করেন ওই মাদ্রাসা ছাত্রী।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মামলা গ্রহণ করে রবিবার রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। তিনজন তিন এলাকার বাসিন্দা হলেও তারা আগে একই বাসায় ভাড়া থাকতেন। সেই সূত্রে পরিচয় এবং ঘটনার সময়ে তারা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করে একই বাসায় মিলিত হয়ে অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।’