কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৯:২২ পিএম
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৯:২৬ পিএম
নাফ নদের বাংলাদেশ অংশে বিজিবির টহল। প্রবা ফটো
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। টানা ছয় মাস তীব্র লড়াইয়ের পর সবশেষ ৮ ডিসেম্বর মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ৫ নম্বর ব্যাটালিয়নের ঘাঁটি দখলের মধ্য দিয়ে শহরটি শতভাগ নিয়ন্ত্রণের কথা জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে আরাকান আর্মি।
থাইল্যান্ড থেকে প্রকাশিত মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মিয়ানমারের ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত অঞ্চলের মংডু শহর পুরোটাই আরাকান আর্মির দখলে গেছে।
আরও বলা হয়, সীমান্ত এলাকার তিনটি টাইনশিপ– মংডু, বুথিডং ও পালেতাওয়া দখলের নেওয়ার দাবি করেছে আরাকান আর্মি। মংডু ও বুথিডং বরাবর বাংলাদেশের সীমান্ত, আর পালেতাওয়ার সঙ্গে ভারতের সীমান্ত রয়েছে।
আরাকান আর্মির ওয়েব সাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টানা ৬ মাস লড়াই করে রবিবার বিজিপির ৫ নম্বর ব্যাটালিয়নের ঘাঁটি থেকে জান্তা সরকারের অনুগত রোহিঙ্গা সহযোগী আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ), আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সদস্যরা পালিয়েছে। ইতিমধ্যে জান্তা বাহিনীর একজন পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থুরিন তুনকে আটক করা হয়েছে। থুরিন ছিলেন রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ১৫ নম্বর অপারেশন কম্যান্ডের অধিনায়ক। একইসঙ্গে জান্তার সেনা ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৮০ জন যোদ্ধাকে আটক করেছে বিদ্রোহীরা।
মংডু দখলের পর নাফ নদের মিয়ানমারের অংশে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আরাকান আর্মি।
বিবৃতিতে বলা হয়, আরাকান আর্মি সফলভাবে রাখাইন রাজ্যের মংডু অঞ্চলের সামরিক জান্তার বর্ডার গার্ড পুলিশ ডিভিশনের (৫ নম্বর) শেষ ফাঁড়িটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এতে সামরিক জান্তার সশস্ত্র সদস্য, তাদের সহযোগী আরএসও, আরসা, এআরএ সদস্যরা এখনও এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তারা অতর্কিত হামলা অব্যাহত রেখেছে। মংডু অঞ্চলের অন্যান্য অংশেও হামলা হচ্ছে। তাই সামরিক প্রয়োজনীয়তা এবং জননিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে নাফ নদে (রাখাইন প্রান্তে) সমস্ত নদী পরিবহন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে এর প্রেক্ষিতে নাফ নদের বাংলাদেশ অংশে টহল জোরদার করেছে বিজিবি।
বিজিবির টেকনাফস্থ ২ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর সৈয়দ ইশতিয়াক মুর্শেদ সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সীমান্তের নাফ নদে টহল তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার টেকনাফ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ বিআরএম-৬ হতে বিআরএম-১০ পর্যন্ত নাফ নদের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহে এবং বাংলাদেশের জলসীমায় নৌ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় বিজিবি জলে ও স্থলে টহল পরিচালনা করছে। সীমান্তের যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।