নড়াইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০:১৫ এএম
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০:৫০ এএম
১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর নড়াইল শত্রুমুক্ত হওয়ায় অস্ত্রহাতে উল্লাস করেন মুক্তিযোদ্ধারা। পেছনে হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে রাজাকাররা। ছবি : সংগৃহীত
আজ ১০ ডিসেম্বর, নড়াইল মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিন রাজাকার ও পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে এক সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে নড়াইল শত্রুমুক্ত হয়।
জানা গেছে, নড়াইল শহরের রূপগঞ্জে অবস্থিত তৎকালীন ওয়াপদা ডাকবাংলায় (বর্তমান পানি উন্নয়ন বোর্ড) পাকিস্তানি মিলিশিয়া ও রাজাকার বাহিনীর সবচেয়ে বড় ক্যাম্প ছিল। ৮ ডিসেম্বর নড়াইল মহকুমার লোহাগড়া থানা শত্রুমুক্ত হয় এবং কালিয়া থানাও মুক্তির দ্বারপ্রান্তে। ৭ ডিসেম্বর নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র, মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান রাজাকারদের হাতে নিহত হন।
এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা ৯ ডিসেম্বর দুপুরে রূপগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থানরত পাকিস্তানি রিজার্ভ ফোর্স, পুলিশ ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ যুদ্ধে পাকবাহিনী ও রাজাকাররা পরাস্ত হলেও সদরের বাগডাঙ্গা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান শহীদ হন।
এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধারা আরও সংগঠিত হয়ে ১০ ডিসেম্বর ভোর ৪টা থেকে রূপগঞ্জ জামে মসজিদ এলাকা (বর্তমান উৎসব কমিউনিটি সেন্টার এলাকা) এবং মালেক মোল্লার দোতলায় মুক্তিযোদ্ধাদের তিনটি গ্রুপ তিন দিক দিয়ে রূপগঞ্জ ওয়াপদায় পাকিস্তানি ও রাজাকার বাহিনীর ওপর গুলি বর্ষণ শুরু করে। দুই পক্ষের মধ্যে টানা সাত ঘণ্টা ব্যাপক গুলিবিনিময় চলার পর বেলা ১১টার দিকে পাকিস্তানি ও রাজাকার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। এ সময় পাক অধিনায়ক বেলুচ কালা খান ২২ পাক সেনা ও ৪৫ রাজাকার নিয়ে নানা ধরনের অস্ত্রসহ মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এতে শত্রুমুক্ত হয় নড়াইল।