শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ২১:৩৬ পিএম
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইন বহির্ভূতভাবে সড়ক ও জনপথের জায়গায় বাজার ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দোকান সরিয়ে নেওয়ার কথা বললে ইজারাদারের পক্ষে আজমল হোসেন শাকিল ও তার সহযোগীরা ভবন মালিক ও তার স্বজনদের কুপিয়ে আহত করে বলে অভিযোগ।
গত রবিবার হামলাকারীদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় মামলা করে ওই পরিবার। সোমবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে পরিবারের পক্ষে আহত আলফাতুন সিঅ্যান্ডবি বাজারের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন।
অভিযুক্তরা হলো, আজমল হোসেন শাকিল, সানি, আজিজুল শেখ, রনি, আসিফ, সাব্বির, সাদাফ, শিব্বির, শরিফ, শিপু, অপু, আক্তার হোসেন এবং নূরু মিয়া।
এর আগে ইজারা বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করে আলফাতুন। ওই জমিতে ইজারাদার দোকান নির্মাণ করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। আবেদনের প্রেক্ষিতে বেআইনি ও আইন বহির্ভূত ইজারা বাতিলের জন্য গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী পরিচালক মুশফিক-উল-আলম শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আলফাতুন বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে শ্রীপুর পৌরসভার ১ নম্বর সিঅ্যান্ডবি বাজার পৌর কর্তৃপক্ষ আইন বহির্ভূতভাবে ইজারা দেয়। গত ৩ ডিসেম্বর ইউএনও তার কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে ডেকে ইজারাদার আক্তার হোসেন ও আজমল হোসেন শাকিলকে ৬টি দোকানের ৩টি দোকান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। ওইদিন সন্ধ্যা ৬টায় সিঅ্যান্ডবি বাজারে শাকিল ও তার সহযোগীরা ক্ষুব্ধ হয়ে সদস্য নূরুল আমীন, তার স্ত্রী আলফাতুন, বড় ভাই রুহুল আমীন এবং ভাড়াটিয়া মানিক মিয়াকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আইন বহির্ভূতভাবে সড়ক ও জনপথের জায়গার পৌর কর্তৃপক্ষের ইজারা বাতিল এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
অভিযুক্ত আজমল হোসেন শাকিলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়। শ্রীপুর থানার ওসি জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, সিঅ্যান্ডবি বাজারে মারামারির ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ জানান, মঙ্গলবার উভয়পক্ষকে ডেকে ইজারাদারকে ৬টি দোকানের ৩টি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শুনেছি ওইদিন (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উভয়পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টাহামলার ঘটনা ঘটে। যেহেতু ঘটনাটি মামলা পর্যন্ত চলে গেছে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।