শাখাওয়াত হোসেন সোহান, রাজবাড়ী
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৭:৪০ পিএম
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৭:৪৪ পিএম
রাজবাড়ী সদর উপজেলার আটটি সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় তা কোনো কাজে আসছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকার মানুষ। কবে নাগাদ এসব সেতুতে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে কিংবা আদৌ সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরের ভেতর বৃহত্তর ফরিদপুর সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প (চতুর্থ পর্যায়) ও বিএডিসি ফরিদপুর প্রকল্পের আওতায় বেশ কয়েকটি সেতু নির্মাণ করে রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়। সংযোগ সড়কবিহীন আটটি সেতুও ওই প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাজবাড়ী-বালিয়াকান্দি সড়কের পাশে সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাটিপাড়া জামে মসজিদের পাশে ৩২ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২৪ লাখ ৪৫ হাজার ৯৪৫ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। ফরিদপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজমনি কনস্ট্রাকশন সেতুগুলো নির্মাণের দায়িত্ব পায়। সেতুটির সংযোগ সড়ক না থাকায় এলাকার মানুষের খুব একটা কাজে আসছে না।
একই অর্থবছরে ওই প্রকল্পের অধীনে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের বাড়িগ্রাম-বানিবহ খালের হারান মণ্ডলের বাড়ির পাশে ২৭ লাখ ৬৮ হাজার ৬০৯ টাকা ব্যয়ে ৩৬ ফুট দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুর রহিম মোল্যা। সেতুর এক পাশ দিয়ে চলে গেছে রাস্তা। অপর পাশে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। পাশেই দুটি বসতঘর। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বৃহত্তর ফরিদপুর সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প (চতুর্থ পর্যায়) বিএডিসি ফরিদপুর প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ী সেচ বিভাগের বাস্তবায়নে কাজ করেছে ঢাকা উত্তরা ৬ সেক্টরের মেসার্স মানিক এন্টারপ্রাইজ। এ সেতু থেকে আধা কিলোমিটার দূরে সৈয়দ পাঁচুরিয়া মধ্যপাড়া মন্দির সংলগ্ন খালের ওপর একই প্রকল্পের অধীনে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয় ৩২ ফুট দীর্ঘ একটি সেতু, যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৫ লাখ ৭৪ হাজার ৭২২ টাকা। এই সেতুর ওপারেও রয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। ডানপাশে দুটি বসতঘর। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বৃহত্তর ফরিদপুর সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প (চতুর্থ পর্যায়) বিএডিসি ফরিদপুর প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ী সেচ বিভাগের বাস্তবায়নে কাজ করেছে রাজবাড়ীর খোন্দকার এন্টারপ্রাইজ ও বিসমিল্লাহ কনস্ট্রাকশন। সেতুটির একপাশে সড়ক। অপর পাশে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। একই গ্রামের অনতিদূরে আলতাফের বাড়ির কাছে আরও একটি সেতু। ১৫ ফুট দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। এই সেতুর একপাশে রাস্তা। অন্য পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন মেহগনি বাগান। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার মরডাঙ্গা খালের ওপর একটি সেতু নির্মিত হয় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে। ২৮ লাখ ৯ হাজার ৯৪৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩৬ ফুট দীর্ঘ সেতুটি স্থানীয় সাবেক এমপি কাজী কেরামত আলী উদ্বোধন করেন। এ সেতুটিরও কোনো সংযোগ সড়ক নেই। যেখানে সংযোগ সড়ক থাকার কথা তার এক পাশে ব্যক্তিমালিকানার জমিতে রয়েছে মেহগনি গাছের বাগান ও খানাখন্দ। অন্য পাশ ঢালু। পায়ে হেঁটে কোনো রকম চলতে পারলেও একটি রিকশা, ভ্যান নিয়ে চলাচল করা সম্ভব নয়। চলতে পারে না কোনো যানবাহনও। এ কারণে সেতুটি কোনো উপকারে আসছে না এলাকাবাসীর। একই প্রকল্পের সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণদিয়া সিরাজ মাস্টারের বাড়ির পাশে খালের ওপর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। এ সেতুটি লম্বায় ২৮ ফুট। এ সেতুর নির্মাণ ব্যয় ২৩ লাখ দুই হাজার ৯০৩ টাকা। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে একই গ্রামের ফজের উদ্দিনের বাড়ির পাশে আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ২৪ ফুট দৈর্ঘ্যের এ সেতুর নির্মাণ ব্যয় ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ৪৪৮ টাকা। নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সদর উপজেলার রায়নগরের মেসার্স খন্দকার এন্টারপ্রাইজ। স্থানীয় সাবেক সাংসদ কাজী কেরামত আলী এ সেতু উদ্বোধন করেন। এক সেতু থেকে আরেক সেতুতে পায়ে হেঁটে যেতে সময় লাগে মাত্র পাঁচ মিনিট। তাতে কোনো সংযোগ সড়ক নেই।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সংযোগ সড়ক না থাকায় এসব সেতু কোনো কাজেই আসছে না তাদের। কার স্বার্থে কার ভালোর জন্য সেতুগুলো নির্মাণ করা হয়েছে তাও বুঝতে পারেন না তারা। তবে মাঠ থেকে ফসল আনা-নেওয়ায় একটু সুবিধা হয়। আর সেতুর পাশে থাকা দু-একটি পরিবার বাস করে। তাদের বেশি সুবিধা হয়।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের প্রকৌশলী বিজয় প্রামানিক বলেন, ‘এ প্রকল্পে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশ ও তৎকালীন সংসদ সদস্যের অনুমোদনের ভিত্তিতে সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ হয়ে থাকে। তবে দীর্ঘদিন হলেও সংযোগ সড়ক না হওয়া দুঃখজনক। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আমি নতুন যোগ দিয়েছি। বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’