চাটমোহর-মান্নাননগর আঞ্চলিক মহাসড়ক
সঞ্জিত চক্রবর্তী, চাটমোহর (পাবনা)
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৭:২৪ পিএম
বালুতে দেবে যাচ্ছে, চাকা উল্টে যাচ্ছে গাড়ির। ছবি চর সেনগ্রাম এলাকা থেকে শুক্রবার সকালে তোলা।
মাত্র দুই মাস কাজ করার পর খোঁজ মিলছে না পাবনার চাটমোহর-মান্নাননগর আঞ্চলিক মহাসড়ক সংস্কারকাজের ঠিকাদারের। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি গা ঢাকা দেওয়ায় সংস্কারকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কটি ব্যবহারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাটমোহর-মান্নাননগর আঞ্চলিক মহাসড়কটি পাবনা সদর, আটঘরিয়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়াসহ কয়েকটি উপজেলার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সড়কটির কল্যাণে এইসব অঞ্চলের মানুষদের ঢাকায় যেতে এক-দেড় ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হয়। ফলে চলনবিল অঞ্চলের মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে আঞ্চলিক মহাসড়কটি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চাটমোহর থেকে হামকুড়িয়া সড়কের হান্ডিয়াল পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজটি পায় সিরাজগঞ্জের তুলনা এন্টারপ্রাইজ। কাজের ব্যয় বাবদ ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস আগে জারদিস মোড় থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কটি সংস্কারকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর ধরে চাটমোহর-মান্নাননগর আঞ্চলিক মহাসড়কটি দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে প্রায় দুই মাস আগে ঘটা করে সড়কটি সংস্কারের কাজ শুরু হলেও গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই গা ঢাকা দেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। সড়কের ১৮ কিলোমিটারের মধ্যে সাড়ে ১২ কিলোমিটার নতুন করে সংস্কারকাজ করা হলেও অসমাপ্ত থাকে কাজটি। চাটমোহর পৌর শহরের জারদিস মোড় থেকে শুরু করে কুজোড় মোড় পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পুরোনো কার্পেটিং তুলে ফেলা হয়। সড়কের দুই পাশে বেজওয়াল নির্মাণ করে রাস্তায় ফেলা হয় বালু ও পাথর। এর পরই বন্ধ হয়ে যায় কাজ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ওই এলাকার মানুষ। অসমাপ্ত সড়কের ছোট ছোট পাথর মানুষের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটায়। পাশাপাশি ধুলার আস্তরণে ঢাকা পড়েছে রাস্তা। সড়কের পাশের দোকানপাট, বাড়িঘর ও গাছপালা ধুলোয় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তাজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি মারণফাঁদে পরিণত হয়। গাড়ির চাকা দেবে যাওয়া থেকে শুরু করে নানা ভোগান্তির শিকার হন যানবাহন চালকরা। এ ছাড়া প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
গত শুক্রবার সরেজমিনে সড়কটিতে দেখা যায়, সড়কটি বর্তমানে চলাচলের জন্য একেবারেই অনুপযোগী। স্থানীয়রা জানায়, এলাকাটি কৃষিপ্রধান হওয়ায় সবচেয়ে বেশি কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয় সেখানে। কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক বেহাল থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে সময়মতো পাঠাতে পারছেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি এলাকার সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হলেও যাদের দেখভাল করার কথা, সেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরেরও কোনো মাথা ব্যথা নেই।
দোদারিয়া এলাকার সবুজ হোসেন বলেন, এরচেয়ে আগের ভাঙাচোরা রাস্তাই ভালো ছিল। তবুও এমন ধুলো উড়ত না। রাস্তার কাজ শুরু হওয়া দেখে আমরা ভেবেছিলাম এবার বুঝি আমাদের কষ্টের দিন শেষ হলো, কিন্তু এখন শুনছি ঠিকাদার আর কাজ করছে না। রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের চালকেরা জানান, ছোট ছোট পাথড়ের ওপর দিয়ে চলাচল করতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। ব্যাটারিচালিত অটো বোরাক উল্টেও যাচ্ছে। জীবননগর এলাকার আনোয়ার হোসেন আনু জানান, জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে মাঝে মাঝেই ঘটে দুর্ঘটনা, এ ছাড়া ধুলায় সারা শরীর মেখে য়ায়। একই এলাকার মজিদ মিয়া জানান, রাস্তার পাশেই আমার বাড়ি, ধুলার জন্য নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। আমার অ্যাজমার সমস্যা বেড়ে গেছে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তুলনা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আজাদুর রহমানের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি তা না ধরায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, দুবার সতর্ক করার পরও ঠিকাদার কাজ শুরু করেননি। শেষবারের মতো ঠিকাদারকে জানানো হয়েছে। যদি এই সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু না করা হয়, তাহলে ওই ঠিকাদারের কাজ বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হবে।