নাটোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৯:১০ পিএম
নাটোরের সিংড়ায় উপজেলা বিএনপির জনসভা মঞ্চে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালিকা ডা. ফারজানা রহমান দৃষ্টির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রহিম নেওয়াজ স্বাক্ষরিত এক পত্রে উপজেলা বিএনপিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে সিংড়ার কোর্টমাঠে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর সভাপতিত্বে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভামঞ্চে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালিকা ডা. ফারজানা রহমান দৃষ্টি উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে বিষয়টি নজরে এলে গতকাল শনিবার বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে নাÑ তা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিস করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রহিম নেওয়াজ।
এদিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি একটি পক্ষ ভাইরাল করে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে উল্লেখ করে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু। ডা. ফারজানা রহমান দৃষ্টি অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর ভাতিজি ও পলকের স্ত্রী আরিফা জেসমিনের চাচাতো বোন।
সিংড়া পৌর বিএনপির সদস্য সচিব তায়েজুল ইসলাম জানান, বিএনপির সভামঞ্চে দৃষ্টির উপস্থিত থাকার বিষয়টি বিএনপির নেতাকর্মীরা ভালোভাবে নেননি। ফারজানা রহমান দৃষ্টি আওয়ামী লীগের শাসনামলে পলকের দাপটে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ভাড়া নিয়ে ক্লিনিক পরিচালনা করেছেন। এ ছাড়া তিনি পলকের নির্বাচনের সময় প্রকাশ্যে নৌকার ভোট করেছেন। জয় বাংলা অ্যাওয়ার্ডও নিয়েছেন পলকের প্রভাবে। এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলকের চাচা শ্বশুর হওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন। গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের সুবিধাপ্রাপ্ত ফারজানাকে মঞ্চে বসিয়ে বিএনপির বানানোর চেষ্টা করছেন আনোয়ারুল ইসলাম আনু। এতে দলের অনেকে ক্ষুব্ধ।
ডা. ফারজানা রহমান দৃষ্টি জানান, তিনি চিকিৎসক। চিকিৎসার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য জয় বাংলা অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন বলে দাবি তার। তবে সামাজিক কর্মকাণ্ডের বাইরে রাজনৈতিক সভামঞ্চে কেন বসলেনÑ এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। তিনি জানান, গত শুক্রবার বিএনপির জনসভার জন্য বিকালে তিনি কোনো যানবাহন না পাওয়ার কারণে সিংড়া বাসস্ট্যান্ডের ক্লিনিক থেকে হেঁটে হাসপাতালের পাশে তার চেম্বারে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার পরিচিত কয়েকজন তাকে মঞ্চে ডাকলে কিছু সময় সেখানে ছিলেন।
সিংড়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু জানান, তাকে কে মঞ্চে তুলেছে সেটা তিনি জানেন না। বিষয়টি নিয়ে যেহেতু তাকে কারণ দর্শানো হয়েছে, যথাসময়ে তিনি এর জবাব দেবেন।
জনসভার প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, আমি পলকের শ্যালিকা ফারজানা রহমানসহ সিংড়ার অনেককে চিনি না। তাই তার মঞ্চে আসন গ্রহণের বিষয়টি খেয়াল করতে পারিনি। তবে সভা চলাকালে ঘটনাটি জানার পর তার মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছি।