× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণে দুই হাজার একর জমিতে জলাবদ্ধতা

হাসান সিকদার, টাঙ্গাইল

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:৩১ এএম

গত বুধবার বাসাইল উপজেলা সদরের আন্দিরাপাড়া এলাকা থেকে তোলা। প্রবা ফটো

গত বুধবার বাসাইল উপজেলা সদরের আন্দিরাপাড়া এলাকা থেকে তোলা। প্রবা ফটো

অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ করার কারণে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় টাঙ্গাইলের বাসাইলে কৃষিজমিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে প্রায় দুই হাজার একর জমিতে সরিষা চাষ ব্যাহত হচ্ছে। অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বোরো মৌসুমের আবাদেও।

স্থানীয়রা জানায়, বাসাইল পৌরসভার আন্দিরাপাড়া এলাকায় একটি কালভার্ট ছিল। গত বছর এটি বন্ধ করে দিয়ে নতুন সড়ক নির্মাণ করে এলাকার বাসিন্দারা। এরপর পানির চাপে নতুন সড়ক ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় কালভার্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে আন্দিরাপাড়া থেকে কোম্পানি বাড়ি পর্যন্ত গত বছর অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ করায় পানি সরার পথ বন্ধ হয়ে যায়। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ করার ফলে এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। গত বর্ষা মৌসুমে কৃষিজমিতে যে পানি ঢোকে, তা আর বের হতে পারেনি। কালভার্ট বন্ধ করে দেওয়ার পর পানি নিষ্কাশনের অন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় দুই হাজার একর জমিতে ধানের বীজতলা তৈরি ও সরিষা আবাদ করতে পারেননি চাষিরা। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না হলে বোরো আবাদ নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা। গত বুধবার সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাসাইল উপজেলা সদরের এসআরপাড়া, আন্দিরাপাড়া, পালপাড়া, মাঝিপাড়া, বালিনাসহ বেশ কিছু এলাকার কৃষিজমিতে এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে এসব জমিতে সরিষার আবাদ চোখে পড়েনি। বোরো ধানের বীজতলাও প্রস্তুত করা হয়নি। সামনে বোরো আবাদেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এসব এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। ফসলি মাঠে আবাদের ব্যবস্থা না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এলাকার প্রায় এক হাজার কৃষক। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

কৃষক ফজল মিয়া বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে চারদিকে রাস্তা করে সেতু ও কালভার্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে এই এলাকার হাজার একর জমি রবিশস্য থেকে বঞ্চিত। বীজতলা কেউ করতে পারতেছে না। বীজতলার মধ্যে হাঁটুপানি। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখে নাই। যেগুলো ছিল সেগুলোও বন্ধ করে দিয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য সুব্যবস্থা করার দাবি জানাই।’

আন্দিরাপাড়া এলাকার কৃষক বলরাম রাজবংশী বলেন, ‘আমরা সরিষা আবাদ করতে পারি নাই। তিন ফসলি জমিতে সব সময় তিন ফসল উৎপাদন করে থাকি। জলাবদ্ধতার কারণে আমরা আবাদ করতে পারতেছি না। কারণ বীজতলায় হাঁটুপানি। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে বোরো আবাদ নিয়েও শঙ্কায় রয়েছি। আমন ধান, সরিষা ও বোরো ধান আবাদ করে আমাদের সংসার চলে। এ আবাদের ওপর আমাদের সংসার নির্ভরশীল। সরকার কোনো ব্যবস্থা না করলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে আমরা ধান রোপণ করতে পারব। ধান রোপণের ব্যবস্থা করে দিয়ে সরকার আমাদের রক্ষা করবেÑ এটাই আমাদের দাবি।’

রাজবংশী আরও বলেন, ‘এ এলাকার বেশিরভাগ মানুষের আয়ের উৎস চাষাবাদ। তারা চাষাবাদ করে সংসার চালায়। দীর্ঘদিন ধরে পানি আটকা পড়ে আছে। তাদের চাষাবাদে ব্যাঘাত ঘটতেছে, সেজন্য তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এখানে একটি কালভার্ট বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে কৃষকরা চাষাবাদ করতে পারবে। না হলে তাদের মৌসুমি ফসলসহ আমন ধান, সরিষা ও বোরো ধান আবাদ করতে পারবে না। তখন কৃষকদের না খেয়ে মরতে হবে।’ 

বাসাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহজাহান আলী বলেন, ‘আন্দিরাপাড়া এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে এ বছর চাষের আওতায় আসেনি। উপজেলা কৃষি বিভাগ এসব এলাকা চাষের আওতায় আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতার জন্য এই পৌরসভায় ৮৩০ জন কৃষককে সরিষার বীজ প্রণোদনা পুনর্বাসন হিসেবে দিয়েছে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যেন বোরো আবাদে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে, সেজন্য প্রায় ২৫০ জন কৃষককে হাইব্রিড বীজ দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরুখ খান বলেন, ‘জলাবদ্ধতা দূর করার দাবিতে এলাকাবাসী লিখিত আবেদন করেছে। জলাবদ্ধতা বাসাইলের দীর্ঘদিনের সমস্যা। সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো হওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা সমস্যা প্রকট হচ্ছে। কৃষিসহ অন্যান্য কাজে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমার পৌরসভার প্রকৌশলী সরেজমিনে গিয়ে জায়গাটি পরিদর্শন করেছেন। অস্থায়ী কোনো কিছু করলে সড়কটির ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে আমরা বর্তমান অর্থবছরে এডিপির প্রকল্প থেকে স্থায়ী কিছু করার চেষ্টা করব যাতে সড়কের ক্ষতি হবে না, জলাবদ্ধতাও দূর হবে। বক্স কালভার্ট করে দেওয়ার চেষ্টা করব। এটি জলাবদ্ধতা নিরসনে ভূমিকা রাখবে আশা করছি।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা