সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৯:৪৫ এএম
কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় ধান কাটার পর চলচে মাড়াই উৎসব। শুক্রবার সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের ভূবিরচর গ্রামে। প্রবা ফটো
কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে আমন ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। আমন কাটা-মাড়াই মৌসুমে সাজ সাজ ভাব না থাকলেও এবার বাম্পার ফলন ও ধানের আশানুরূপ দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা। মৃদু শীতল বাতাসে সারা মাঠে চোখ জুড়ানো সোনালি আমন ধান দোলের মতো কৃষকের মনেও বইছে আনন্দের দোল। তাই কৃষকদের ঘরে ঘরে বইছে এখন নবান্ন উৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি।
জেলার ১৩টি উপজেলার মাঠ-ঘাটজুড়ে সোনালি বর্ণ ধারণ করা আমন ধানের নয়নাভিরাম দৃশ্য এখন চোখে পড়ার মতো। পাকা ধান কাটতে হাতে কাঁচি নিয়ে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মাঠ থেকে নতুন ধান বাড়িতে তোলার জন্য খুশিতে আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন কৃষাণীরা। এরই মধ্যে অনেকেই কাটা ও মাড়াইয়ের ধান বাজারে বিক্রিও শুরু করছেন। এ বছর কৃষকেরা ধানের ভালো দাম পাওয়ায় অনেক খুশি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলায় ৮৫ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন চাল। অনেক কৃষক ধান কেটে জমিতেই মাড়াই ও বিক্রি করছেন। ব্যবসায়ীরা এসে ক্ষেত থেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ধান কাটার পর ওই জমিতে আগাম আলুসহ শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্নের ফসল আগাম আলু রোপণে জোরেশোরে মাঠে কাজ করছেন আলুচাষিরা।
গতকাল শুক্রবার সকালে সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সর্বত্রই আমন ধান কাটার ধুম পড়েছে একযোগে। কৃষকেরা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী দৈনিক হাজিরায় কাজের লোক নিয়ে নিজে উপস্থিত থেকে ধান কাটছেন। কেউ কেউ আবার চুক্তিতে ধান কাটার কাজ করাচ্ছেন। কৃষকদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরাও আমন ধান কাটার কাজে সহায়তা করছেন।
সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের ভূবিরচর গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে চায়না আগাম জাতের ধান রোপণ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় ২০-২২ মণ ধান হয়েছে। দামও ভালো। এবার চার বিঘায় আগাম আলু রোপণ করব।’
পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের নরজুল মিয়া জানান, এ বছর সাড়ে তিন বিঘা জমিতে বি-৪৯ জাতের ধান চাষ করেছেন। বিঘাপ্রতি তার খরচ হয়েছে ৮ হাজার টাকা। ফলন ভালো হওয়ায় সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ৬০ মণ ধান পাওয়ার আশা প্রকাশ করছেন। এ বছর ধানের দাম ভালো থাকায় তিনি খুব খুশি মনে ধান সংগ্রহ করছেন।
করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কৃষক তাহের আলী জানান, নতুন ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় খুশি। কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই মাঠের ফসল ঘরে উঠাতে পেরেছি। প্রতি বিঘায় প্রায় ১৫-১৬ মণ ফলন হয়েছে। সামান্য রোগ-বালাই হলেও তেমন সমস্যা হয়নি। তবে সার, কীটনাশক, শ্রমিকের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেশি পড়েছে। এ নতুন ধান দিয়ে এবার নবান্ন উৎসব পালন করব।
ধান ব্যবসায়ী মামুন মিয়া বলেন, অন্যান্যবারের তুলনায় এবার শুরু থেকেই ধানের দাম ভালো যাচ্ছে। জাতভেদে প্রতি মণ মোটা ধান ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫৮০ টাকা এবং চিকন ধান ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেচা-বিক্রি হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেলায় প্রথমদিকে বৃষ্টিপাতের কিছুটা সমস্যা থাকলেও পরে আশানুরূপ বৃষ্টিপাতের ফলে রোপা আমনের চারা রোপণে সমস্যা হয়নি। এ মৌসুমে ধান চাষে তেমন বাড়তি খরচ করতে হয়নি কৃষকদের। ফলনও ভালো হয়েছে। অন্যদিকে দামও বেশ ভালো রয়েছে। কৃষকরা লাভবান হবেন।